দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তান ও ভারতের সম্পর্ক রাজনীতি থেকে ক্রীড়া—সব ক্ষেত্রেই উত্তেজনাপূর্ণ।
একসময় ক্রিকেট মাঠে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সৌহার্দ্য দেখা গেলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই দৃশ্য প্রায় হারিয়েই গেছে। অধিনায়কদের করমর্দন নেই, সাবেক ক্রিকেটারদের কথার লড়াই আছে—সব মিলিয়ে বৈরিতা এখন স্পষ্ট।
এরই মধ্যে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার ঘোষণা দিয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে পাকিস্তান। ঠিক এমন আবহে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম দিনে ঘটে যায় এক আশ্চর্য মিল—দুটি আলাদা ম্যাচে হলেও ভারত ও পাকিস্তান যেন একই গল্পের দুই অধ্যায় হয়ে ওঠে।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিনেই মাঠে নামে দুই দল।
প্রতিপক্ষও ছিল তুলনামূলক দুর্বল হিসেবে বিবেচিত দুই সহযোগী দেশ—পাকিস্তানের সামনে নেদারল্যান্ডস, ভারতের সামনে যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ম্যাচের গতিপথ দেখে সেটা বোঝার উপায় ছিল না।
কলম্বোয় নেদারল্যান্ডসকে ১৪৭ রানে আটকে দিয়ে পাকিস্তান শুরুটা করেছিল দারুণভাবে। পাওয়ার প্লে ও প্রথম দশ ওভারেই বড় স্কোরের ইঙ্গিত দিয়েছিল তারা। কিন্তু হঠাৎ করেই ব্যাটিং ধসে পড়ে দলটি। ৯৮ রানে দুই উইকেট হারানোর পর মাত্র কয়েক রানের ব্যবধানে একের পর এক ব্যাটার সাজঘরে ফেরেন।
সেই বিপর্যয় থেকে পাকিস্তানকে উদ্ধার করেন ফাহিম আশরাফ। মাত্র ১১ বলে ২৯ রানের ঝোড়ো ইনিংসে দলকে এনে দেন নাটকীয় ৩ উইকেটের জয়।
ভারতের গল্পও ছিল প্রায় একই। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ম্যাচে ৭৭ রানেই ৬ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। তখন মনে হচ্ছিল বড় অঘটন বুঝি আসন্ন। তবে অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব একাই ম্যাচের চিত্র বদলে দেন। তার ৪৯ বলে ৮৪ রানের দায়িত্বশীল ও আক্রমণাত্মক ইনিংসে ভারত পৌঁছে যায় ১৬১ রানে এবং শেষ পর্যন্ত ২৯ রানের জয় নিশ্চিত করে।
এখানেই শেষ নয় মিল। দুই দলের জয়ই এসেছে একজন করে ‘ত্রাতা’র ব্যাটে—ফাহিম আশরাফ ও সূর্যকুমার যাদব। চাপের মুখে দাঁড়িয়ে দুজনই খেলেছেন সময়োচিত ইনিংস, যা শুধু ম্যাচই নয়, বিশ্বকাপের শুরুতে দলকে মানসিকভাবে বড় স্বস্তি দিয়েছে।
রাজনৈতিক দূরত্ব যতই থাকুক, বিশ্বকাপের প্রথম দিনটি তাই ক্রিকেটীয় নাটকীয়তায় পাকিস্তান ও ভারতকে এনে দিল একই ছাতার নিচে।
এসআর
মন্তব্য করুন: