দীর্ঘ সময় ধরে জাতীয় দলের বাইরে থাকা সাকিব আল হাসান আবারও আলোচনায়।
রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে দেশে না ফিরতে পারলেও, আসন্ন সিরিজগুলোতে তাকে বিবেচনায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন জানিয়েছেন, পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে সাকিব ভবিষ্যৎ সিরিজে জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ পেতে পারেন।
বোর্ডের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষে সম্ভাব্য টি-টোয়েন্টি সিরিজে সাকিবকে দলে পেতে আগ্রহী তারা। তবে তার দেশে ফেরার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে আছে রাজনৈতিক পরিচয় ও সংশ্লিষ্ট আইনি জটিলতা। একসময় ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য থাকা সাকিবের বিরুদ্ধে সরকার পরিবর্তনের পর একাধিক মামলা হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।
এই জটিলতা কাটিয়ে সাকিবের দেশে ফেরা এবং জাতীয় দলে খেলার পথ সুগম করতে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে বিসিবি। বোর্ডের দাবি, সাকিব নিজেও আবার বাংলাদেশের হয়ে খেলতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে এ বিষয়ে তার পুরোনো কোচ সালাহউদ্দীনের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নে স্পষ্ট কোনো উত্তর দেননি সালাহউদ্দীন।
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বুধবার অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে সংবাদ সম্মেলনে তিনি সংক্ষিপ্ত ও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন। তার ভাষায়, “সব কথা তো প্রকাশ্যে বলা যায় না।”
যদিও সাকিবের ক্রিকেটীয় সামর্থ্য নিয়ে কোনো দ্বিধা নেই সালাহউদ্দীনের। ধূমকেতু একাদশের এই কোচের মতে, সাকিব এমন একজন খেলোয়াড় যাকে যে কোনো দলই চাইবে। তার ব্যাখ্যায়, অলরাউন্ডার হিসেবে সাকিব দলের ভারসাম্য গড়ে দিতে পারেন—ব্যাট ও বল দুই বিভাগেই তার অবদান গুরুত্বপূর্ণ। ফিটনেস ঠিক থাকলে অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার এখনো বড় সম্পদ হতে পারেন বলে মনে করেন তিনি।
দেড় বছরের বেশি সময় ধরে জাতীয় দলের বাইরে থাকলেও আন্তর্জাতিক ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে নিয়মিত খেলছেন সাকিব আল হাসান। ৩৯ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার মতো শারীরিক সক্ষমতা তার আছে কি না—এটাই এখন ভক্তদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
এসআর
মন্তব্য করুন: