আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে মাঠে গড়াচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ।
তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে এবারের আসরে অংশ নিচ্ছে না বাংলাদেশ দল। এই ফাঁকা সময়টায় জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ম্যাচ খেলার সুযোগ ও আর্থিক ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে দিতে বিকল্প প্রতিযোগিতা আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
তিন দলের এই ঘরোয়া আসরের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপ’। চার ম্যাচের এই সংক্ষিপ্ত টুর্নামেন্ট শুরু হচ্ছে ৫ ফেব্রুয়ারি।
প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে লিটন দাসের নেতৃত্বে ধূমকেতু একাদশ, নাজমুল হোসেন শান্তর দুর্বার একাদশ এবং আকবর আলীর দুরন্ত একাদশ। টুর্নামেন্ট সামনে রেখে দলগুলো অনুশীলনও শুরু করে দিয়েছে।
বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, ম্যাচ ফি ও পুরস্কার মিলিয়ে এই টুর্নামেন্টে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ কোটি ৫৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা। বিশ্বকাপে না খেলতে পারায় ক্রিকেটারদের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতি কমানোই মূল লক্ষ্য।
প্রতিটি ম্যাচে খেলার জন্য একজন ক্রিকেটার পাবেন ৫০ হাজার টাকা ম্যাচ ফি। কোনো দল ম্যাচ জিতলে অতিরিক্ত ১০ লাখ টাকা দলীয় পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হবে, যা খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের মধ্যে ভাগ করা হবে। প্রতি দলে মোট ২০ জন থাকায় গড়ে একজন ক্রিকেটারের ভাগে আসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা।
প্রথম পর্বে দুটি ম্যাচ জিততে পারলে একজন ক্রিকেটারের মোট আয় গড়ে আরও ২ লাখ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে।
লিগ পর্ব শেষে শীর্ষ দুই দল ফাইনালে মুখোমুখি হবে। চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ১ কোটি টাকা প্রাইজমানি, যা ভাগ করলে একজন ক্রিকেটারের অংশ দাঁড়ায় প্রায় ৫ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে শিরোপাজয়ী দলের একজন খেলোয়াড়ের মোট আয় ৭ লাখ টাকা বা তার বেশি হতে পারে।
রানার্সআপ দল পাবে ৪০ লাখ টাকা, সেখান থেকে একজন ক্রিকেটারের গড় আয় হবে প্রায় ২ লাখ টাকা। ফলে এই দলের ক্রিকেটারদের মোট আয় দাঁড়াবে আনুমানিক ৪ লাখ টাকা।
এ ছাড়া ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের জন্যও থাকছে আলাদা পুরস্কার। প্রতিটি ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় পাবেন ১ লাখ টাকা। টুর্নামেন্ট সেরা ক্রিকেটারের জন্য থাকছে ৫ লাখ টাকা, আর সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক ও উইকেটশিকারির জন্য বরাদ্দ ৩ লাখ টাকা করে।
সূচি অনুযায়ী, ৫ ফেব্রুয়ারি ধূমকেতু একাদশের বিপক্ষে মাঠে নামবে দুরন্ত একাদশ। ৬ ফেব্রুয়ারি ধূমকেতু খেলবে দুর্বার একাদশের বিপক্ষে। ৭ ফেব্রুয়ারি লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুর্বার ও দুরন্ত একাদশ। ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ৯ ফেব্রুয়ারি। প্রতিটি ম্যাচ শুরু হবে সন্ধ্যা ছয়টায়।
এদিকে শিক্ষার্থীদের জন্য থাকছে বিশেষ সুবিধা। স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামের ক্লাব হাউজ গ্যালারিতে বসে খেলা উপভোগ করতে পারবেন। এ জন্য ইউনিফর্ম বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আইডি কার্ড সঙ্গে রাখতে হবে বলে জানিয়েছে বিসিবি।
এসআর
মন্তব্য করুন: