আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে যাচ্ছে ৭ ফেব্রুয়ারি।
টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) একটি সিদ্ধান্ত বিশ্ব ক্রিকেটে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান, যা টুর্নামেন্ট ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি করেছে।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও সুপার এবং ভারতের এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) আজ একটি জরুরি ভার্চ্যুয়াল বোর্ড সভা আয়োজন করছে। বৈঠকে পাকিস্তানের সিদ্ধান্তের প্রভাব ও সম্ভাব্য করণীয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
এনডিটিভির সূত্র অনুযায়ী, আইসিসির ওই বৈঠকে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের কারণে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় থাকতে পারে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম নিউজ১৮ জানিয়েছে, সভাটি আজ অথবা বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হতে পারে।
ভারতের দৈনিক জাগরণ জানিয়েছে, এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে আইসিসিকে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত জানায়নি পিসিবি। তবে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, সরকারের সিদ্ধান্ত জানিয়ে আজই আইসিসিকে ই-মেইল পাঠানোর প্রস্তুতি রয়েছে বোর্ডটির।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাকিস্তান সরকারের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের অনুমতি পেলেও ভারতের বিপক্ষে ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচে পাকিস্তান দল মাঠে নামবে না। এই ঘোষণার পরপরই আইসিসি জানায়, তারা এ বিষয়ে পিসিবির আনুষ্ঠানিক অবস্থানের অপেক্ষায় রয়েছে।
প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় আইসিসি এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, কোনো দল যদি টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে নির্দিষ্ট ম্যাচ বেছে বেছে না খেলে, তাহলে তা প্রতিযোগিতার ন্যায্যতা ও মর্যাদাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। আইসিসি বিভিন্ন দেশের সরকারি অবস্থানকে সম্মান করলেও এমন সিদ্ধান্ত বিশ্ব ক্রিকেট ও ভক্তদের জন্য নেতিবাচক বার্তা দেয় বলেও মন্তব্য করা হয়। পাশাপাশি পিসিবিকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জিও সুপারের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সম্ভাব্য শাস্তির মধ্যে বড় অঙ্কের অর্থদণ্ড, ভবিষ্যতের আইসিসি ইভেন্টে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা এবং দ্বিপাক্ষিক সিরিজ সীমিত করার মতো পদক্ষেপ থাকতে পারে। এছাড়া পাকিস্তান সুপার লিগে বিদেশি ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণেও বিধিনিষেধ আরোপের সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে।
ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার ফলে সম্প্রচারকারী সংস্থা ও বাণিজ্যিক অংশীদারদের যে আর্থিক ক্ষতি হতে পারে, তার দায় পিসিবির ওপর বর্তাতে পারে বলেও প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: