[email protected] শনিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
১৮ মাঘ ১৪৩২

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬: বাংলাদেশ ইস্যুতে নীরবতা ভাঙল সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ৭:৪৫ পিএম

সংগৃহীত ছবি

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬কে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) মধ্যে টানাপোড়েনের অবসান ঘটেছে কঠোর সিদ্ধান্তের মাধ্যমে।

নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে ভারতে নির্ধারিত ম্যাচ অন্য দেশে আয়োজনের আবেদন করেছিল বাংলাদেশ। তবে সেই প্রস্তাব গ্রহণ না করায় শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে যায় টাইগাররা।

প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, প্রতিযোগিতার শুরুতে ভারতের কলকাতা ও মুম্বাইয়ে বাংলাদেশের চারটি ম্যাচ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভারতের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরানোর অনুরোধ জানানো হয়। মুস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল না খেলার সিদ্ধান্তের পরপরই এই আবেদন পাঠানো হয়েছিল আইসিসির কাছে।

আইসিসি আবেদনটি নাকচ করে দিলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে বাংলাদেশকে ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছিল। তবে অবস্থান পরিবর্তন না করায় শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে বাছাইপর্বে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ র‍্যাঙ্কধারী স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

এই সিদ্ধান্তের পর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়—বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন জানিয়ে পাকিস্তানও কি বিশ্বকাপ বর্জনের পথে হাঁটবে, নাকি ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

পুরো ঘটনাপ্রবাহে দীর্ঘ সময় নিশ্চুপ ছিল সহ-আয়োজক দেশ শ্রীলঙ্কা। বিষয়টি নিয়ে যখন নানা জল্পনা চলছিল, তখন অবশেষে মুখ খুলেছে কলম্বো। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের সেক্রেটারি বান্দুলা ডিসানায়েকে এএফপিকে জানান, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে জড়াতে চায় না শ্রীলঙ্কা। তাঁর ভাষায়, ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ—তিন দেশই তাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু, তাই তারা নিরপেক্ষ অবস্থানেই থাকতে চায়।

তবে তিনি স্পষ্ট করেন, ভবিষ্যতে কোনো দেশ চাইলে শ্রীলঙ্কা টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য প্রস্তুত থাকবে।

উল্লেখ্য, চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে ভারত ও পাকিস্তান বর্তমানে একে অপরের বিপক্ষে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে ম্যাচ খেলছে। এই বাস্তবতায় আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান তাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলবে, যার মধ্যে ভারতের বিপক্ষের ম্যাচটিও অন্তর্ভুক্ত।

শ্রীলঙ্কার ক্রীড়ামন্ত্রী সুনীল কুমারা গামাগে জানান, বিশ্বকাপ আয়োজন নির্বিঘ্ন করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে, বিশেষ করে আলোচিত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচগুলোর ক্ষেত্রে।

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ৮ মার্চ।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর