[email protected] বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৬ ফাল্গুন ১৪৩২

আইসিসি–বাংলাদেশ দ্বন্দ্ব: বিশ্বকাপের আগে কে নেবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ৫:০৬ পিএম

সংগৃহীত ছবি

সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। ২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি মাত্র কয়েক সপ্তাহ, অথচ বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আইসিসির বোর্ড সভার দিকেই এখন সবার নজর। এই বৈঠক থেকেই স্পষ্ট হতে পারে—বিশ্বকাপে বাংলাদেশ খেলবে, নাকি সরে দাঁড়ানোর কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।


বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অবস্থান শুরু থেকেই পরিষ্কার। নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে তারা ভারতীয় ভেন্যুতে দল পাঠাতে অনিচ্ছুক। বিকল্প হিসেবে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল এখন পর্যন্ত সূচি বা গ্রুপ বিন্যাসে কোনো পরিবর্তনে সম্মত হয়নি। একাধিক আলোচনা হলেও অচলাবস্থা থেকেই গেছে। সংশ্লিষ্ট মহলে আজকের দিনটিকেই সিদ্ধান্ত ঘোষণার শেষ সময় হিসেবে দেখা হচ্ছে।


এই প্রেক্ষাপটে সামনে যে সম্ভাবনাগুলো রয়েছে, সেগুলো নিয়েই এখন জল্পনা তুঙ্গে।
সম্ভাব্য পরিণতি
১. বাংলাদেশ ভারতে খেলতে সম্মত হতে পারে
এই সম্ভাবনাকে সবচেয়ে কম বাস্তবসম্মত বলেই মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা। সরকার ও বিসিবি—দুই পক্ষই শুরু থেকে একই অবস্থানে রয়েছে। হঠাৎ করে অবস্থান বদলালে দেশের ভেতরে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে এই পথে যাওয়াকে বড় ধরনের অপ্রত্যাশিত ঘটনা হিসেবেই দেখা হবে।


২. আইসিসি শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের অনুমতি দিতে পারে
এটাই ছিল বিসিবির মূল প্রস্তাব। এমনকি প্রয়োজনে গ্রুপ পুনর্বিন্যাসের কথাও তোলা হয়েছিল, যাতে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কায় খেলা দলগুলোর সঙ্গে অদলবদল করতে পারে। তবে আইসিসি এসব প্রস্তাব আগেই নাকচ করেছে এবং নির্ধারিত সূচি পরিবর্তনের কোনো ইঙ্গিত এখনও দেয়নি। তাই এই সম্ভাবনাও আপাতত ক্ষীণ।


৩. বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়াতে পারে বাংলাদেশ
ধীরে ধীরে এটিই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পরিণতি হিসেবে দেখা দিচ্ছে। বিশ্বকাপ না খেললে বাংলাদেশের ক্ষতি শুধু মানসিক নয়, কৌশলগতও। র‍্যাঙ্কিংয়ে প্রভাব পড়তে পারে, ভবিষ্যৎ আসরের সরাসরি যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে। পাশাপাশি আইসিসির প্রস্তুতি ভাতা ও সম্ভাব্য পুরস্কার অর্থ থেকেও বঞ্চিত হবে বিসিবি ও খেলোয়াড়রা। সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসবে ক্রিকেটারদের ক্যারিয়ারে—বিশ্বকাপই তো নিজেদের প্রমাণের সবচেয়ে বড় মঞ্চ। বাংলাদেশ সরে দাঁড়ালে তাদের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই নেওয়া হয়েছে।


৪. কোনো সমঝোতার মধ্যপথ
বাস্তবতায় এই বিকল্প প্রায় অনুপস্থিত। ভারতের ভেতরে ভেন্যু বদল, কিংবা তৃতীয় কোনো দেশে ম্যাচ আয়োজন—এসব প্রস্তাব আগেই বাতিল হয়েছে। পাকিস্তানে ম্যাচ আয়োজনের সম্ভাবনাও কেবল গুঞ্জনেই সীমাবদ্ধ। যদিও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড প্রকাশ্যে বাংলাদেশের অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছে, তাতে পরিস্থিতির বাস্তব কোনো পরিবর্তন আসছে না।


সব মিলিয়ে, আজকের আইসিসি বোর্ড সভা কেবল একটি প্রশাসনিক বৈঠক নয়—এটি বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ভবিষ্যৎ নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। এখন দেখার বিষয়, এই টানটান পরিস্থিতিতে শেষ পর্যন্ত কে অবস্থান বদলাবে আগে—আইসিসি, নাকি বাংলাদেশ?

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর