ব্রাজিলিয়ান তারকা ফুটবলার নেইমার এক পর্যায়ে ফুটবল থেকে
অবসর নেওয়ার কথা ভেবেছিলেন। দীর্ঘদিনের চোট ও শারীরিক ভোগান্তির কারণে এমন মানসিক অবস্থার মধ্যে পড়েছিলেন তিনি—এমন তথ্য জানিয়েছেন তার বাবা ও এজেন্ট নেইমার দা সিলভা সান্তোস সিনিয়র।
মেনিস্কাসে চোটের কারণে এখনও পুরোপুরি সুস্থ নন ৩৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। গত ২২ ডিসেম্বর তার বাঁ হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করা হয়। এর আগের মৌসুমে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সান্তোসের হয়ে মাঠে নামলেও চোট তাকে মানসিকভাবে ভীষণভাবে প্রভাবিত করেছিল।
এক ইউটিউব সাক্ষাৎকারে নেইমার সিনিয়র জানান, অস্ত্রোপচারের আগে তার ছেলের মানসিক অবস্থা ভালো ছিল না। সংবাদমাধ্যমে চোটের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তিনি ভেঙে পড়েন। বাবার ভাষায়, নেইমার তখন বলেছিলেন—তিনি আর পারছেন না এবং অস্ত্রোপচার করালেও আদৌ আগের মতো ফিরতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে অনিশ্চিত ছিলেন।
নেইমারের মধ্যে হতাশা ও বিষণ্নতা স্পষ্টভাবে দেখেছিলেন তার বাবা। সেই সময় তিনি ছেলেকে দুটি বিষয়ে মনোযোগ দিতে বলেন—চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরে নিজের সামর্থ্য প্রমাণ করা এবং বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন আঁকড়ে ধরা।
২০২৩ সালের অক্টোবরে ব্রাজিলের হয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে গিয়ে নেইমারের এসিএল ও মেনিস্কাসে গুরুতর চোট লাগে। এরপর থেকেই ফিটনেস ফিরে পেতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
নেইমার সিনিয়র জানান, অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্তের পর তিনি ছেলেকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে পুরো পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় তিনি পাশে থাকবেন। সেই সমর্থন নেইমারের মানসিক শক্তি ফেরাতে সাহায্য করে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের পরদিনই নেইমার অনুশীলনে ফেরেন। বাঁ ও ডান পা দিয়ে শট নেওয়ার পর তিনি আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার ইঙ্গিত দেন এবং জানান, শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সান্তোসে ফেরার পর ব্রাজিলিয়ান সিরি আ-র অর্ধেক মৌসুম খেলতে পেরেছেন নেইমার। লিগে তার করা আট গোলের মধ্যে শেষ দিকে চারটি গোল ছিল গুরুত্বপূর্ণ, যা দলকে অবনমন থেকে বাঁচাতে বড় ভূমিকা রাখে।
সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৬ সালের ব্রাজিলিয়ান সিরি আ শুরুর আগেই পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ব্রাজিলের হয়ে ১২৮ ম্যাচে ৭৯ গোল করা নেইমার দেশটির সর্বোচ্চ গোলদাতা এবং তিনটি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছেন।
এসআর
মন্তব্য করুন: