[email protected] শুক্রবার, ৪ এপ্রিল ২০২৫
২০ চৈত্র ১৪৩১

.

নারী ফুটবলে সিনিয়রদের সিন্ডিকেট ভাঙতে গিয়ে বাটলার এখন খলনায়ক

এম. এ. রনী

প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০২৪ ৮:৩২ পিএম
আপডেট: ২২ অক্টোবর ২০২৪ ৮:৪৪ পিএম

.

বাংলাদেশের নারী ফুটবল দলে ‘সিন্ডিকেট’ ইস্যুটি আবার সামনে চলে এসেছে। নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ নেপালে তাদের শিরোপা ধরে রাখার মিশনে খেলছে। কিন্তু সিনিয়র খেলোয়াড়দের প্রভাব, কোচ পিটার বাটলারের সিদ্ধান্ত এবং দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়ে দলে বিভক্তির আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।

 

পিটার বাটলার, যিনি একসময় ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলেছেন এবং বেশ কয়েকটি দেশের জাতীয় দল এবং ক্লাবের কোচ ছিলেন, বাংলাদেশ নারী দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর সিনিয়র-জুনিয়র ভেদাভেদ দূর করার জন্য বলেছিলেন। তিনি পারফরম্যান্সকেই মূল বিবেচ্য করেছেন, যা সিনিয়র খেলোয়াড়দের একাংশের বিরাগভাজন হয়েছে। বিশেষ করে দলকে তরুণ প্রতিভাবানদের সুযোগ দিতে গিয়ে তিনি কিছু সিনিয়র খেলোয়াড়কে বাদ দিয়েছেন বা সীমিত করেছেন, যা নারীদের মধ্যে সিন্ডিকেটের বিষয়ে আলোচনা তৈরি করেছে।

 

সিনিয়র খেলোয়াড় মনিকা চাকমা এক সাক্ষাৎকারে অভিযোগ করেন, কোচ বাটলার সিনিয়রদের পছন্দ করেন না এবং তাদের দল থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এই অভিযোগ দলটির ভেতরে থাকা সমস্যাগুলোকে সামনে এনেছে। অধিনায়ক সাবিনা খাতুনও দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হলেও, তার সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়ে কিছু প্রশ্ন উঠেছে। দলের সিনিয়ররা নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব থাকছেন, যা সমর্থকদের মনেও প্রশ্ন তুলেছে।

বসুন্ধরা কিংস যখন নারী লীগ থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয়, তখনই সিনিয়রদের সিন্ডিকেট নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। সিনিয়র খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিকের দাবি বসুন্ধরা কিংস মেনে না নিতে পারায়, তারা লীগ থেকে সরে আসে। এই ঘটনার পরই প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে সিনিয়রদের সিন্ডিকেটের প্রভাব দেখা যায়।

গত পাকিস্তান ম্যাচে কোচ বাটলার বেশ কয়েকটি কৌশলগত পরিবর্তন করেন। উদাহরণস্বরূপ, দীর্ঘদিন ধরে স্থবির থাকা মাসুরা পারভীনের পরিবর্তে কোয়াতি কিসকুকে সুযোগ দেন, যিনি প্রতিপক্ষের আক্রমণকে থামাতে এবং রক্ষণে চাপ কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখেন। একইভাবে, মিডফিল্ডে সানজিদার পরিবর্তে শামসুন্নাহার জুনিয়রকে নামানো হয়, যিনি দলের হয়ে সমতাসূচক গোল করেন এবং বেশ কিছু আক্রমণ তৈরি করেন। মারিয়া মান্ডার জায়গায় স্বপ্না রাণীকে খেলানোর সিদ্ধান্তও সফল হয়, কারণ স্বপ্না দলের মধ্যমাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার পাশাপাশি আক্রমণ তৈরিতে সাহায্য করেন।

বাটলার আক্রমণভাগেও সাহসী পরিবর্তন আনেন। ইঞ্জুরি থেকে ফিরলেও কৃষ্ণা রানীকে সরাসরি মূল একাদশে না রেখে তার জায়গায় তাহুরা খাতুনকে সুযোগ দেন। তাহুরা তার সুযোগ যথাযথভাবে কাজে লাগিয়েছেন, যা কোচের সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করেছে।

নারী ফুটবলে সিন্ডিকেট ইস্যু নিয়ে আলোচনা তীব্র হলেও, পিটার বাটলারের এসব পরিবর্তন দলের ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক হতে পারে। সিনিয়র-জুনিয়র বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে পারফরম্যান্সই দলকে এগিয়ে নেবে—এটাই বাটলারের মূলমন্ত্র। তবে সিন্ডিকেটের মতো সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে হলে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন এবং খেলোয়াড়দের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

 

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর