আল্লাহ তাআলা কোরআনকে মানুষের জন্য উপদেশ, হৃদয়ের
রোগের চিকিৎসা, রহমত ও পথনির্দেশ হিসেবে পাঠিয়েছেন। সঠিকভাবে এর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুললে একজন মুমিন দুনিয়া ও আখিরাত—দুই জীবনেরই কল্যাণ লাভ করে। নিম্নে কোরআনের সঙ্গে বন্ধন দৃঢ় করার সাতটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় তুলে ধরা হ
১. নিয়মিত তিলাওয়াত
সঠিক তাজবিদ অনুযায়ী কোরআন পড়লে মন পরিষ্কার হয়, ঘর-পরিবারে বরকত নেমে আসে এবং অন্তরে প্রশান্তি জাগে। প্রতিদিন কিছু আয়াত হলেও নিয়মিত পড়ার অভ্যাস গড়ে তুললে তার প্রভাব জীবনে স্পষ্ট হয়। বিশেষ করে ফজরের পর তিলাওয়াত অত্যন্ত বরকতময়।
২. অনুবাদ ও তাফসির অধ্যয়ন
শুধু তিলাওয়াত নয়—কোরআনের অর্থ ও ব্যাখ্যা বোঝার চেষ্টা করলে জীবনযাপনের নানা প্রশ্নের সমাধান পাওয়া যায়। বিজ্ঞ আলেমদের ব্যাখ্যা পড়লে আয়াতের গভীর শিক্ষা ও প্রাসঙ্গিকতা সহজে অনুধাবন করা যায়।
৩. কোরআন মুখস্থ করা
হাফিজ হওয়া সবার পক্ষে সম্ভব না হলেও কিছু সূরা বা অংশ মুখস্থ রাখলে তা অন্তরকে শক্তি জোগায়। মানসিক অস্থিরতা বা দুঃসময়েও মুখস্থ আয়াতগুলো হৃদয়ে প্রতিধ্বনিত হয়ে প্রশান্তি দেয়। রাতে নফল নামাজে মুখস্থ অংশ পড়া আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের সুন্দর মাধ্যম।
৪. মনোযোগ দিয়ে শোনা
যাত্রার সময়, বিশ্রামের মুহূর্তে, মসজিদে বসে বা কোনো আলোচনায় কোরআন তিলাওয়াত শোনার সুযোগ পেলে মনোযোগ দিয়ে শুনা উচিত। কোরআন শ্রবণ মানুষকে নরম হৃদয়ের অধিকারী করে এবং আল্লাহর স্মরণকে জোরদার করে।
৫. জীবনযাপনে কোরআনের নির্দেশনা প্রয়োগ
কোরআনের উদ্দেশ্য শুধু পাঠ বা মুখস্থ নয়; জীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করাই এর মূল লক্ষ্য। লেনদেন, পারিবারিক দায়িত্ব, নৈতিক আচরণ, দান-সদকা, ন্যায়-অন্যায়ের সিদ্ধান্ত—সবকিছুতেই কোরআনের নির্দেশনা অনুসরণ করা একজন মুমিনের কর্তব্য। জেনে-শুনে আমল না করলে তা কিয়ামতের দিন সাক্ষ্য হিসেবে দাঁড়াবে।
৬. কোরআন শিক্ষা দেওয়া
যারা কোরআন শেখে এবং অন্যকে শেখায়, তারা আল্লাহর নিকট বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। কয়েকজনকে নিয়ে ছোট আকারে পাঠচক্র করা, আয়াতের অর্থ আলোচনা করা কিংবা শিশুদের মৌলিক শিক্ষা দেওয়া—এসবও কোরআন শেখানোর অন্তর্ভুক্ত।
৭. ‘আহলুল কোরআন’ হওয়া
নিয়মিত পড়া, শেখা, বোঝা ও প্রচারে যারা নিজেদের নিয়োজিত রাখেন, তারা পারস্পরিক ঈমানী বন্ধনে আবদ্ধ হন। আল্লাহর ভালোবাসায় গড়ে ওঠা এই সম্পর্ক দুনিয়ার স্বার্থনির্ভর সম্পর্ককে ছাড়িয়ে যায়। কোরআনের সঙ্গী হিসেবে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে চাইলে এই গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার চেষ্টা করা জরুরি।
এসআর
মন্তব্য করুন: