[email protected] শনিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৫
২১ চৈত্র ১৪৩১

পবিত্র লাইলাতুল কদর আজ

এম. এ. রনী

প্রকাশিত: ২৭ মার্চ ২০২৫ ৮:০৫ এএম

ফাইল ছবি

পবিত্র রমজান মাসের সর্বশ্রেষ্ঠ রাতগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো লাইলাতুল কদর।

যা মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বরকতময় এক রাত। কোরআনের বর্ণনা অনুযায়ী, এটি হাজার মাসের চেয়েও উত্তম (সুরা আল-কদর, আয়াত ৩)।

লাইলাতুল কদরের মাহাত্ম্য

  • আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহের রাত: এ রাতে আল্লাহ তাআলা বান্দাদের গুনাহ ক্ষমা করেন, তাদের দোয়া কবুল করেন এবং অগণিত রহমত বর্ষণ করেন।
  • কোরআন নাজিলের রাত: মহান আল্লাহ এই রাতে সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ জীবন বিধান আল-কোরআন নাজিল করেছেন।
  • ফেরেশতাদের আগমন: কোরআনের ভাষ্য অনুযায়ী, এ রাতে জিবরাইল (আ.)সহ অসংখ্য ফেরেশতা পৃথিবীতে অবতরণ করেন এবং মানবজাতির কল্যাণ কামনা করেন।

কবে হয়ে থাকে লাইলাতুল কদর?

ইসলামী শরিয়তের ব্যাখ্যা অনুসারে, রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোর (২১, ২৩, ২৫, ২৭, ২৯) যেকোনো একটিতে লাইলাতুল কদর হয়ে থাকে। তবে অনেক ইসলামি স্কলার ও মুসলিমদের মাঝে প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী ২৭ রমজান লাইলাতুল কদরের সম্ভাব্য রাত বলে ধরা হয়।

লাইলাতুল কদরের আমল

এ রাতে বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগি করা সুন্নত। নিম্নলিখিত আমলগুলো করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে—

  1. নফল নামাজ: অতিরিক্ত নফল নামাজ আদায় করা।
  2. কোরআন তিলাওয়াত: মহান আল্লাহর নিকট আত্মসমর্পণের জন্য কোরআন পড়া।
  3. দোয়া ও ইস্তেগফার: বিশেষত, এই দোয়াটি পড়া—
    اللهم إنك عفو تحب العفو فاعف عني
    উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া ফা'ফু আন্নি।
    অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসো, আমাকে ক্ষমা করো।
  4. যিকির ও তাসবিহ: সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ পড়া।
  5. তওবা ও ইস্তেগফার: পাপ থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করা।

লাইলাতুল কদরের গুরুত্ব সম্পর্কে কোরআন ও হাদিসের বাণী

  1. সুরা আল-কদর (৯৭:৩) -
    لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِّنْ أَلْفِ شَهْرٍ
    অর্থ: "লাইলাতুল কদর হলো হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ।"
  2. হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেন—
    "যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরে ঈমান ও ইহতিসাবের (আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য) সঙ্গে ইবাদত করে, তার পূর্ববর্তী সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করা হয়।" (বুখারি, মুসলিম)

এই রাতের বার্তা

লাইলাতুল কদর আমাদের আত্মশুদ্ধির এক অপূর্ব সুযোগ এনে দেয়। এটি আল্লাহর কাছাকাছি যাওয়ার, ক্ষমা প্রার্থনার এবং কল্যাণ কামনার রাত। এই রাতে আমরা যেন বেশি বেশি ইবাদত করি, নফল নামাজ আদায় করি এবং আমাদের গুনাহ থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই।

আসুন, আমরা এই রাতকে যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করি।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর