তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরটি তার বিশাল সব উসমানীয় স্থাপত্যের জন্য বিশ্বখ্যাত। তবে ফাতিহ জেলার একটি ছোট মসজিদ পর্যটকদের বিশেষভাবে টানে এর বিচিত্র নামের কারণে। তুর্কি ভাষায় এর নাম ‘সানকি ইয়েদিম’, যার বাংলা অর্থ
‘মনে করো আমি খেয়ে ফেলেছি’। এই নামকরণের পেছনে লুকিয়ে আছে এক সাধারণ মানুষের অদম্য সংকল্প আর ২০ বছরের কৃচ্ছ্রসাধনের ইতিহাস।
সপ্তদশ শতাব্দীতে খাইরুদ্দিন এফেন্দি নামের এক সাধারণ ব্যবসায়ী এই মসজিদটি নির্মাণের স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু বিশাল অট্টালিকা গড়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য তার ছিল না। স্বপ্ন পূরণে তিনি এক অভিনব কৌশল অবলম্বন করেন। বাজারে গিয়ে যখনই তার সুস্বাদু কোনো খাবার, ফল বা মিষ্টি কিনতে ইচ্ছে হতো, তিনি নিজেকে বলতেন— ‘মনে করো আমি খেয়ে ফেলেছি’।
সেই খাবারের টাকাটি খরচ না করে তিনি একটি বাক্সে জমিয়ে রাখতেন। এভাবে টানা ২০ বছর নিজের রসনা তৃপ্তি বিসর্জন দিয়ে জমানো অর্থ দিয়ে তিনি শেষ পর্যন্ত মসজিদটি নির্মাণ করেন। তার সেই ত্যাগের প্রবাদটিই পরবর্তী সময়ে মসজিদের নাম হিসেবে স্থায়ী হয়ে যায়।
কালের বিবর্তনে মসজিদটি অনেক চড়াই-উতরাই পার করেছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আগে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ১৯৫৯ থেকে ১৯৬১ সালের মধ্যে স্থানীয়দের সহযোগিতায় এটি পুনর্নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে কংক্রিটের তৈরি এই মসজিদে একটি প্রধান গম্বুজ ও চারটি ছোট গম্বুজ রয়েছে, যেখানে প্রায় ২৫০ জন মুসল্লি একত্রে নামাজ পড়তে পারেন।
মসজিদটির বর্তমান ইমাম আবদুল্লাহ কুতলুলুগলুর মতে, খাইরুদ্দিন এফেন্দির এই উদ্যোগ আমাদের সঞ্চয় ও ধৈর্যের গুরুত্ব শেখায়। বড় কোনো মহৎ কাজ করতে যে কেবল অঢেল সম্পদের প্রয়োজন নেই, বরং সামান্য ত্যাগ আর অদম্য ইচ্ছাশক্তিই যথেষ্ট, ‘সানকি ইয়েদিম’ মসজিদটি আজও তার এক জীবন্ত নিদর্শন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
এসআর