লাইলাতুল কদর বা শবে কদর হলো বছরের সবচেয়ে মহিমান্বিত রাত, যাকে পবিত্র কুরআনে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম বলে ঘোষণা করা
হয়েছে। তবে এই বিশেষ রাতটি রমজানের ঠিক কত তারিখে সংঘটিত হয়, তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল রয়েছে। বিভিন্ন হাদিস ও ফকিহদের মতামতের আলোকে এই রাতের সময়কাল নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:
রাসূলুল্লাহ (সা.) লাইলাতুল কদরের নির্দিষ্ট তারিখটি উম্মতকে জানাতে চেয়েছিলেন, কিন্তু দুই ব্যক্তির বিবাদের কারণে সেই জ্ঞান তাঁর স্মৃতি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। এর পেছনে অন্যতম উদ্দেশ্য হলো, মুমিনরা যেন কেবল একটি রাতের ওপর ভরসা না করে রমজানের শেষ দশকের প্রতিটি রাতেই ইবাদতে মগ্ন থাকে।
বিভিন্ন হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী শবে কদরের সম্ভাবনা নিয়ে কয়েকটি মত প্রচলিত আছে:
শেষ দশকের বেজোড় রাত: রাসূল (সা.) রমজানের শেষ ১০ দিনের বেজোড় রাতগুলোতে (২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯) কদর তালাশ করতে বলেছেন।
২৭শে রমজান: অনেক সাহাবী ও আলেমদের মতে, ২৭শে রমজানের রাতে শবে কদর হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
পরিবর্তনশীলতা: ইমাম মালিক, ইমাম আহমদ এবং ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.)-সহ অনেক গবেষক মনে করেন, লাইলাতুল কদর প্রতি বছর একই তারিখে হয় না; বরং এটি শেষ দশকের বিভিন্ন রাতের মধ্যে পরিবর্তিত হতে পারে।
হাদিস অনুযায়ী, রাসূল (সা.) রমজানের শেষ ১০ দিন ইবাদতে অন্য সময়ের চেয়ে অনেক বেশি পরিশ্রম করতেন। তাই নির্দিষ্ট কোনো একটি তারিখের অপেক্ষায় না থেকে শেষ দশকের প্রতিটি রাতেই নফল নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত এবং দোয়ার মাধ্যমে এই বরকতময় রাতটি অনুসন্ধান করা উচিত। মূলত এই গোপনীয়তার মধ্যেই মুমিনদের জন্য কল্যাণ নিহিত রয়েছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: