পবিত্র রমজান মাসের শেষ দশকে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতগুলোর মধ্যে একটি হলো ইতেকাফ।
এই সময় মুমিনরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে নির্জনে থেকে ইবাদতে মনোনিবেশ করেন।
ইতেকাফের ফজিলত সম্পর্কে হজরত মুহাম্মদ (সা.) একটি হাদিসে বলেছেন, আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কেউ যদি একদিন ইতেকাফ করেন, তবে আল্লাহ তার এবং জাহান্নামের মাঝে এমন দূরত্ব সৃষ্টি করবেন যা তিনটি পরিখার সমান; প্রতিটি পরিখার দূরত্ব আকাশ ও জমিনের মাঝের ব্যবধানের সমান।
ইসলামী বিধান অনুযায়ী, পুরুষদের জন্য রমজানের শেষ দশকে ইতেকাফ করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা আলাল কিফায়া।
অর্থাৎ কোনো মহল্লার মসজিদে অন্তত একজন ব্যক্তি ইতেকাফে বসলে অন্যরা দায়মুক্ত হয়ে যায়। অন্যদিকে নারীদের জন্য ইতেকাফ করা মুস্তাহাব বা প্রশংসনীয় আমল।
নারীরা সাধারণত মসজিদের পরিবর্তে নিজেদের ঘরে নির্দিষ্ট একটি স্থানে ইতেকাফ করেন।
আগে থেকে নামাজের জন্য নির্ধারিত জায়গা না থাকলে ঘরের একটি অংশ ইতেকাফের জন্য ঠিক করে সেখানে অবস্থান করতে হয়। ইতেকাফ শুরু হলে সেই জায়গার মর্যাদা মসজিদের মতোই গণ্য হয়। তাই প্রয়োজন ছাড়া সেই স্থান ত্যাগ করা ঠিক নয়।
এই কারণে রান্নাবান্না বা অন্যান্য গৃহস্থালি কাজের জন্য ইতেকাফের স্থান ছেড়ে বাইরে গেলে ইতেকাফ ভেঙে যেতে পারে। তবে যদি খাবার এনে দেওয়ার মতো কেউ না থাকে, তাহলে প্রয়োজনবশত বাইরে গিয়ে খাবার নিয়ে দ্রুত ফিরে আসা বৈধ।
তবে নির্ধারিত ইতেকাফের জায়গার ভেতর থেকেই নারী কিছু হালকা গৃহস্থালি কাজ—যেমন আটা মাখা, রান্না করা বা কাপড় ধোয়া—করতে পারেন।
তবুও ইসলামী পণ্ডিতদের মতে, ইতেকাফ শুরুর আগে এসব কাজের বিকল্প ব্যবস্থা করে রাখা উত্তম। এতে পুরো সময়টা মনোযোগ দিয়ে ইবাদতে কাটানো সহজ হয়।
ইসলামী ফিকহের বিভিন্ন গ্রন্থ—যেমন ফাতওয়ায়ে হিন্দিয়া ও ফাতওয়ায়ে বানুরী টাউন এ বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: