[email protected] মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
১৮ ফাল্গুন ১৪৩২

রমজানের মহিমা ও সতর্কবার্তা: কারা বঞ্চিত হতে পারে ক্ষমা থেকে

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২ মার্চ ২০২৬ ১১:০১ পিএম

সংগৃহীত ছবি

রমজান মাস মুসলিম উম্মাহর জন্য আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন ও গুনাহ মাফের বিশেষ সময়।

এ মাসে ইবাদতের সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয় এবং সংযমের মাধ্যমে মানুষ নিজেকে পরিশুদ্ধ করার সুযোগ পায়। হাদিসে এসেছে, “الصِّيَامُ جُنَّةٌ”—অর্থাৎ রোজা মানুষের জন্য ঢালস্বরূপ (সহিহ মুসলিম)।
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন—


“شَهۡرُ رَمَضَانَ الَّذِیۡۤ اُنۡزِلَ فِیۡهِ الۡقُرۡاٰنُ...”
অর্থাৎ রমজান সেই মাস, যাতে কুরআন নাজিল করা হয়েছে মানুষের হেদায়াতের জন্য (সুরা আল-বাকারা: ১৮৫)। একই সুরায় আরও বলা হয়েছে,
“یٰۤاَیُّهَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا كُتِبَ عَلَیۡكُمُ الصِّیَامُ...”
যেখানে মুমিনদের ওপর রোজা ফরজ হওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে, যাতে তারা তাকওয়া অর্জন করতে পারে (আল-বাকারা: ১৮৩)।


হাদিসে আরও এসেছে, রমজান এলে জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করা হয় এবং শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয় (সহিহ মুসলিম)। অর্থাৎ এ মাস রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের সুবর্ণ সুযোগ নিয়ে আসে।


তবে এত সুযোগের পরও কিছু মানুষ এ মাস থেকে প্রকৃত উপকার পায় না। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করে বলেছেন—
“رَغِمَ أَنْفُ رَجُلٍ ...”


অর্থাৎ তিন শ্রেণির মানুষের জন্য দুর্ভাগ্যের কথা বলা হয়েছে:
১. যার সামনে নবীজির নাম উচ্চারিত হলো, অথচ সে দরুদ পাঠ করল না।
২. যে রমজান পেল, কিন্তু ক্ষমা লাভ না করেই মাসটি অতিবাহিত করল।


৩. যে তার বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে পেল, তবু তাদের সেবার মাধ্যমে জান্নাত অর্জন করতে পারল না (তিরমিজি)।
এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, রমজান কেবল একটি মাস নয়—এটি আত্মশুদ্ধি ও ক্ষমা প্রার্থনার বিশেষ সুযোগ। যে ব্যক্তি এ সময়েও নিজের সংশোধনে উদ্যোগী হয় না, সে-ই প্রকৃত অর্থে বঞ্চিত। তাই এ মাসে ইবাদত, তওবা ও মানবসেবার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের প্রচেষ্টা বাড়ানোই মুমিনের করণীয়।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর