পবিত্র রমজান মাস আত্মসংযম ও আল্লাহর প্রতি আনুগত্য প্রকাশের এক বিশেষ সময়। দীর্ঘ দিন
সিয়াম সাধনার পর ইফতারের মুহূর্তটি রোজাদারের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও বরকতময়। এই সময়ে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) খেজুর দিয়ে ইফতার করতে উৎসাহিত করেছেন, যা ইসলামের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত হিসেবে স্বীকৃত।
দ্রুত ইফতার করার ফজিলত
ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী, সূর্যাস্তের পর বিলম্ব না করে দ্রুত ইফতার করা মুস্তাহাব এবং কল্যাণের প্রতীক। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, "মানুষ যতদিন পর্যন্ত সময় হওয়ার সাথে সাথে ইফতার করবে, ততদিন তারা কল্যাণের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে।" (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)।
খেজুর দিয়ে ইফতার কেন সুন্নত?
যেকোনো হালাল খাবার দিয়ে ইফতার করা জায়েজ হলেও খেজুরের আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। হাদিস শরিফে বর্ণিত হয়েছে:
হযরত সালমান ইবনে আমের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "তোমাদের কেউ যখন ইফতার করে, সে যেন খেজুর দিয়ে ইফতার করে। কারণ এতে বরকত রয়েছে। আর যদি খেজুর না পায়, তবে যেন পানি দিয়ে ইফতার করে, কারণ পানি পবিত্র।" (সুনানে তিরমিজি)।
এই নির্দেশনা থেকে স্পষ্ট যে, খেজুর না থাকলে সাধারণ পানি দিয়ে ইফতার করাও সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত। আরবের সহজলভ্য ফল হিসেবে নবীজি (সা.) খেজুর গ্রহণ করতেন, যা বর্তমানে বিশ্বব্যাপী রোজাদারদের কাছে প্রধান ইফতার সামগ্রীতে পরিণত হয়েছে।
আল্লাহর নেয়ামত ও পবিত্র কুরআনের বর্ণনা
পবিত্র কুরআনে খেজুরসহ বিভিন্ন ফলমূলকে আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত ও কুদরতের নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সুরা আল-আনআম-এর ৯৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বৃষ্টি, শস্যদানা এবং খেজুর বৃক্ষের ঝুলন্ত থোকার কথা উল্লেখ করে মুমিনদের সেগুলোর দিকে লক্ষ্য করার নির্দেশ দিয়েছেন।
ইফতারে খেজুর খাওয়া ফরজ বা বাধ্যতামূলক নয়, তবে এটি একটি অত্যন্ত বরকতময় আমল। সামর্থ্য থাকলে খেজুর দিয়ে ইফতার করা উত্তম, নতুবা পানি বা দেশীয় পুষ্টিকর ফল দিয়েও ইফতার সম্পন্ন করা যায়। মূল উদ্দেশ্য হলো—সঠিক সময়ে ইফতার করা, সুন্নতের অনুসরণ এবং আল্লাহর দেওয়া নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করা।
এসআর
মন্তব্য করুন: