স্থাপত্যশৈলী ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় ইউনেস্কোর 'বিশ্ব ঐতিহ্য' (World Heritage)
তালিকায় নিবন্ধিত হতে যাচ্ছে ইরানের ইসফাহান প্রদেশের প্রাচীন ৬টি মসজিদ। দেশটির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য মন্ত্রণালয় এবং ইউনেস্কোর বিশেষজ্ঞদের যৌথ মূল্যায়নের ভিত্তিতে এই মসজিদগুলোকে চূড়ান্ত তালিকার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।
নির্বাচিত ঐতিহাসিক মসজিদসমূহ
বিশ্ব ঐতিহ্যের মর্যাদার লড়াইয়ে থাকা এই ৬টি উল্লেখযোগ্য মসজিদ হলো:
১. জামে আরদেস্তান মসজিদ
২. জামে জাভারে মসজিদ
৩. আগা বোজর্গ কাশান মসজিদ
৪. জামে নাটাঞ্জ মসজিদ
৫. জামে ইশতারজান মসজিদ
৬. জামে নাইইন মসজিদ
এছাড়া 'বারসিয়ান' ও 'নেইর' নামের আরও দুটি মসজিদকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তালিকায় অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার ইশতারজান জামে মসজিদ। প্রায় ১৫০০ বর্গমিটার আয়তনের এই স্থাপনাটি সেলজুক ও ইলখানি আমলের স্থাপত্য বিবর্তনের এক অনন্য নিদর্শন। ১২ মিটার উঁচু প্রবেশপথ, শৈল্পিক মিনার, টাইলস ও ইটের কারুকাজ এবং প্রাচীন শিলালিপি মসজিদটিকে অনন্য ঐতিহাসিক মর্যাদা দিয়েছে। ১৯৩৭ সালেই এটি ইরানের জাতীয় ঐতিহ্যের তালিকায় স্থান পেয়েছিল।
ইসফাহান প্রদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিভাগের মহাপরিচালক আমির করমজাদে জানান, ইশতারজান জামে মসজিদের জরুরি সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যেই ৫ বিলিয়ন তুমান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ফালাভারজান কাউন্টির পর্যটন ও ঐতিহ্য সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের জন্য মোট ১৫ বিলিয়ন তুমান বাজেটের পরিকল্পনা রয়েছে। ইউনেস্কোর নিয়ম অনুযায়ী ঐতিহাসিক কাঠামোর মূল নকশায় ন্যূনতম হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করে এই সংস্কার কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে।
ঐতিহাসিক এই নিদর্শনগুলোর সক্ষমতা তুলে ধরতে এবং বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সম্প্রতি 'ইরানি-ইসলামি স্থাপত্য বিষয়ক জাতীয় উৎসব' আয়োজন করা হয়েছে। এই নিবন্ধনের মাধ্যমে ইরানের পর্যটন শিল্পে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করছে প্রাদেশিক সরকার।
এসআর
মন্তব্য করুন: