মানুষের জীবনে দোয়ার গুরুত্ব অপরিসীম। আমরা সাধারণত নিজেদের প্রয়োজন বা
বিপদমুক্তির জন্য দোয়া করি। তবে ইসলামের শিক্ষা হলো নিজের পাশাপাশি অন্যের জন্যও কল্যাণ কামনা করা। পবিত্র কুরআনুল কারিমে এমন একটি শক্তিশালী দোয়ার উল্লেখ আছে, যার মাধ্যমে নিজের, পিতা-মাতার এবং পৃথিবীর সকল মুমিন নর-নারীর জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা যায়।
কুরআনের সেই বিশেষ দোয়া
সুরা নুহ-এর ২৮ নম্বর আয়াতে হযরত নুহ (আ.)-এর একটি হৃদয়স্পর্শী দোয়া বর্ণিত হয়েছে। দোয়াটি হলো:
আরবি:
رَبِّ اغۡفِرۡ لِیۡ وَ لِوَالِدَیَّ وَ لِمَنۡ دَخَلَ بَیۡتِیَ مُؤۡمِنًا وَّ لِلۡمُؤۡمِنِیۡنَ وَ الۡمُؤۡمِنٰتِ ؕ وَ لَا تَزِدِ الظّٰلِمِیۡنَ اِلَّا تَبَارًا
উচ্চারণ: রাব্বিগফিরলি ওয়া লিওয়ালিদাইয়্যা ওয়া লিমান দাখালা বাইতিয়া মু’মিনাও ওয়া লিলমু’মিনিনা ওয়াল মু’মিনাতি, ওয়া লা তাযিদিজ জ্বলিমিনা ইল্লা তাবারা।
অর্থ: > "হে আমার পালনকর্তা! আপনি আমাকে ক্ষমা করুন, আমার পিতা-মাতাকে ক্ষমা করুন, যারা ঈমান নিয়ে আমার ঘরে প্রবেশ করেছে তাদেরকে এবং সকল মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীকে। আর আপনি জালিমদের শুধু ধ্বংসই বৃদ্ধি করুন।" (সুরা নুহ, আয়াত: ২৮)
এই দোয়ার শিক্ষা ও তাৎপর্য
এই একটি ছোট্ট দোয়ার মধ্যে পাঁচটি গভীর আবেদন লুকিয়ে আছে:
১. আত্মশুদ্ধি: নিজের গুনাহর জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া।
২. পিতা-মাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা: জন্মদাতার কল্যাণে দোয়া করা সন্তানের প্রধান দায়িত্ব।
৩. অতিথির সম্মান: ঘরে আগত মুমিন মেহমানদের জন্য বরকত প্রার্থনা।
৪. বিশ্বজনীন ভ্রাতৃত্ব: পৃথিবীর সকল মুসলিম ভাই-বোনের (উম্মাহ) নাজাত কামনা করা।
৫. ন্যায়বিচার: জুলুম ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়া।
দৈনন্দিন আমলে এর গুরুত্ব
একজন মুমিনের হৃদয় কখনোই সংকীর্ণ হওয়া উচিত নয়। এই দোয়াটি নিয়মিত পাঠ করলে শুধু নিজের সওয়াবই হয় না, বরং পরোক্ষভাবে সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য ভালোবাসা প্রকাশ পায়। নামাজ পরবর্তী মোনাজাতে বা দিনের যেকোনো সময়ে এই অর্থবহ দোয়াটি আমলে আনা প্রতিটি মুসলিমের জন্য কল্যাণকর।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে, আমাদের বাবা-মাকে এবং পৃথিবীর সকল মুমিনকে ক্ষমা করে দিন। আমিন।
এসআর
মন্তব্য করুন: