মানুষের জীবন অনিশ্চিত। কখন বিপদ বা অকল্যাণ আমাদের ঘিরে ধরবে, তা আমাদের
অজানাই থেকে যায়। একজন মুমিন ব্যক্তি সব সময় আল্লাহর ওপর ভরসা করেন এবং মন্দ ফায়সালা ও দুর্ভাগ্য থেকে বাঁচতে তাঁরই আশ্রয় কামনা করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের এমন একটি দোয়া শিখিয়েছেন, যা দুনিয়া ও আখিরাতের সব অনিষ্ট থেকে রক্ষার জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো সেই বিশেষ দোয়া
বিপদ-আপদ ও শত্রুর অনিষ্ট থেকে বাঁচতে বুখারি শরিফের এই দোয়াটি নিয়মিত পাঠ করা জরুরি:
আরবি:
اللَّهُمّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ جَهْدِ الْبَلَاءِ، وَمِنْ دَرَكِ الشَّقَاءِ، وَمِنْ سُوءِ الْقَضَاءِ، وَمِنْ شَمَاتَةِ الْأَعْدَاءِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিন জাহদিল বালা-ই, ওয়া মিন দারাকিশ শিকা-ই, ওয়া মিন সুইল ক্বাদা-ই, ওয়া মিন শামাতাতিল আ‘দা-ই।
অর্থ: "হে আল্লাহ! আমি তোমার আশ্রয় গ্রহণ করছি—বিপদ-আপদের কঠিন কষ্ট থেকে, দুর্ভাগ্যের কবলে পতিত হওয়া থেকে, মন্দ ফায়সালা থেকে এবং শত্রুদের (বিপদে) আনন্দিত হওয়া থেকে।" (সহিহ বুখারি: ৬৬১৬)
কেন এই দোয়াটি গুরুত্বপূর্ণ?
এই দোয়াটি পাঠের মাধ্যমে একজন মুমিন চারটি প্রধান অকল্যাণ থেকে আল্লাহর কাছে নিরাপত্তা চান:
কঠিন বিপদ: যা সহ্য করার ক্ষমতা মানুষের নেই।
দুর্ভাগ্য: জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে ব্যর্থতা বা দুর্ভাগ্যের গ্রাস থেকে বাঁচতে।
মন্দ ফায়সালা: এমন কোনো সিদ্ধান্ত বা পরিস্থিতি যা মানুষের জন্য অমঙ্গল ডেকে আনে।
শত্রুর উপহাস: নিজের বিপদে শত্রুরা যাতে আনন্দিত হওয়ার সুযোগ না পায়।
মুমিন হিসেবে আমাদের উচিত সকাল-সন্ধ্যা এবং প্রতিটি নামাজের পর পূর্ণ বিশ্বাসের সাথে এই দোয়াটি পাঠ করা। আল্লাহ তাআলা আমাদের সব অকল্যাণকর পরিস্থিতি থেকে হেফাজত করুন।
এসআর
মন্তব্য করুন: