[email protected] সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১১ ফাল্গুন ১৪৩২

রমজান সম্পর্কে ৮টি অজানা ও কৌতূহলোদ্দীপক তথ্য

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৭:২৩ এএম

রমজান মাস শুরু হতে আর মাত্র কিছুদিন বাকি। জ্যোতির্বিদ্যার গণনা অনুযায়ী, ১৯ বা ২০

 ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে পারে সিয়াম সাধনার এই মাস। পবিত্র এই মাসকে ঘিরে সারা বিশ্বে এখন চলছে প্রস্তুতির আমেজ। রমজান সম্পর্কে এমন কিছু তথ্য রয়েছে যা আমাদের অনেকেরই অজানা। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই ৮টি চমকপ্রদ তথ্য:


​১. রমজান নামের উৎপত্তি
​'রমজান' শব্দটি এসেছে আরবি শব্দমূল থেকে, যার অর্থ 'তীব্র গরম' বা 'দগ্ধ ভূমি'। ধারণা করা হয়, আরবে যখন এই মাসের নামকরণ হয়েছিল তখন প্রচণ্ড গরম ছিল। আধ্যাত্মিকভাবে এর অর্থ হলো—রোজার মাধ্যমে মানুষের গুনাহ পুড়িয়ে ফেলা।


​২. ইসলামপূর্ব যুগেও ছিল গুরুত্ব
​অনেকের ধারণা রোজা কেবল ইসলামেরই বিধান। কিন্তু সপ্তম শতাব্দীতে ইসলাম আগমনের আগেও আরব সমাজে এই মাসটিকে বিশেষভাবে সম্মান করা হতো। যদিও রোজা রাখার বিষয়টি মহানবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর সময়েই মুসলমানদের জন্য ফরজ বা বাধ্যতামূলক করা হয়।


​৩. প্রতি ৩৩ বছরে সব ঋতু ঘুরে আসে
​চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে হিজরি সন নির্ধারিত হয়, যা ইংরেজি ক্যালেন্ডারের চেয়ে ১০-১২ দিন ছোট। এই কারণে প্রতি বছর রমজান কিছুটা এগিয়ে আসে। এভাবে প্রায় ৩৩ বছরের চক্রে রমজান মাস একবার করে শীত, গ্রীষ্ম, শরৎ ও বসন্ত—সব ঋতুতেই ফিরে আসে।


​৪. ২০৩০ সালে হবে দুটি রমজান!
​ক্যালেন্ডারের হিসাব অনুযায়ী, ২০৩০ সালে মুসলমানরা একই বছরে দুইবার রমজান মাস পাবেন। একবার বছরের শুরুতে জানুয়ারিতে এবং দ্বিতীয়বার বছরের শেষে ডিসেম্বরে। এর আগে ১৯৯৭ সালেও এমনটি ঘটেছিল।


​৫. রোজা কোথাও ১৬ তো কোথাও ২০ ঘণ্টা
​ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে পৃথিবীর সব জায়গায় রোজার সময় এক নয়। এবার বাংলাদেশে রোজা সাড়ে ১২ থেকে সাড়ে ১৩ ঘণ্টার মতো হলেও উত্তর গোলার্ধের দেশগুলো যেমন—আইসল্যান্ড, গ্রিনল্যান্ড বা নরওয়েতে ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে।


​৬. ২০৩৩ সালে ৩টি ঈদ ও বড়দিনের আমেজ
​হিসাব অনুযায়ী, ২০৩৩ সালে একই বছরে তিনটি ঈদ পালিত হতে পারে (দুইটি ঈদুল ফিতর ও একটি ঈদুল আজহা)। এছাড়া ওই বছরের ২৩ ডিসেম্বরের দিকে ঈদুল ফিতর এবং এর ঠিক দুই দিন পর ২৫ ডিসেম্বর বড়দিন হওয়ায় উৎসবের এক অনন্য মিলনমেলা দেখা যেতে পারে।


​৭. হোয়াইট হাউসের প্রথম ইফতার ভোজ
​১৮০৫ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট থমাস জেফারসন প্রথম হোয়াইট হাউসে রমজানের ভোজের আয়োজন করেছিলেন। তিউনিসিয়ার দূতের সম্মানে আয়োজিত সেই নৈশভোজটি ইচ্ছাকৃতভাবে সূর্যাস্তের পর রাখা হয়েছিল যাতে তিনি ইফতার করতে পারেন।


​৮. ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ঐতিহ্যের বিচ্যুতি
​যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসে দীর্ঘ দুই দশক ধরে রমজান শেষে ইফতার বা ঈদ আয়োজনের একটি রীতি ছিল। তবে ২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই প্রথা ভেঙে কোনো ইফতার আয়োজন করেননি, যা বিশ্বজুড়ে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর