বিশ্বজুড়ে মুসলিম দেশগুলোতে হিজরি ক্যালেন্ডার বা চন্দ্রবর্ষের তারিখ নির্ধারণে মূলত
চারটি পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। ভৌগোলিক অবস্থান এবং মেঘলা আকাশের কারণে দেশভেদে রোজা বা ঈদের তারিখ ভিন্ন হতে পারে।
১. স্থানীয়ভাবে খালি চোখে চাঁদ দেখা
এটি সবচেয়ে প্রাচীন ও প্রচলিত পদ্ধতি। ২৯শে রমজান বা জিলহজ মাসের সন্ধ্যায় মানুষ খালি চোখে পশ্চিম আকাশে নতুন চাঁদ (হিলাল) দেখার চেষ্টা করে। চাঁদ দেখা গেলে ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ বা সরকার নতুন মাসের ঘোষণা দেয়।
২. জ্যোতির্বিদ্যার হিসাব বা বৈজ্ঞানিক গণনা
আধুনিক বিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিদ্যার তথ্যের ওপর ভিত্তি করে চাঁদের অবস্থান নির্ণয় করা হয়।
উদাহরণ: সিঙ্গাপুরে পর্যাপ্ত খোলা জায়গা না থাকায় এবং আকাশ মেঘলা থাকায় ১৯৭৪ সাল থেকেই তারা বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী তারিখ নির্ধারণ করে আসছে।
৩. অন্য দেশের ঘোষণা অনুসরণ
যেসব অঞ্চলে নিজস্ব চাঁদ দেখার ব্যবস্থা নেই বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নেই, তারা পার্শ্ববর্তী কোনো মুসলিম দেশ অথবা মক্কার (সৌদি আরব) সিদ্ধান্ত অনুসরণ করে। অ্যান্টার্কটিকার মতো দুর্গম স্থানে অবস্থানরত মুসলমানরা সাধারণত এই পদ্ধতি মেনে চলেন।
৪. সমন্বিত বা হাইব্রিড পদ্ধতি
এই পদ্ধতিতে প্রথমে জ্যোতির্বিদ্যার হিসাব দিয়ে দেখা হয় চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু। এরপর সেই তথ্যের ভিত্তিতে পর্যবেক্ষকরা আকাশে চাঁদ খোঁজেন। বৈজ্ঞানিক তথ্য ও ধর্মীয় পর্যবেক্ষণ—উভয়কেই এখানে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বিশেষ কিছু তথ্য
হজের তারিখ: হজের ক্ষেত্রে পুরো বিশ্বকেই সৌদি আরবের জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করতে হয়, কারণ হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা আরাফাতের ময়দানে ৯ই জিলহজ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রযুক্তির ব্যবহার: ২০২৫ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রথমবারের মতো ড্রোন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
গুরুত্বপূর্ণ মাস: রমজান (রোজা শুরু), শাওয়াল (ঈদুল ফিতর), জিলহজ (হজ ও ঈদুল আজহা), মুহাররম (ইসলামী নববর্ষ) এবং রবিউল আউয়াল মাসের চাঁদ দেখা মুসলমানদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
তারিখ ভিন্ন হওয়ার কারণ
ভৌগোলিক অবস্থান, সময়ের পার্থক্য এবং আবহাওয়া বা মেঘলা আকাশের কারণে এক দেশে চাঁদ দেখা গেলেও অন্য দেশে তা দৃশ্যমান নাও হতে পারে। এ কারণেই সাধারণত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রোজা বা ঈদ ১-২ দিন আগে বা পরে পালিত হয়।
এসআর
মন্তব্য করুন: