ইসলাম ধর্মে নামাজ কেবল একটি ইবাদত নয়, বরং এটি আত্মশুদ্ধি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার মূল
ভিত্তি। পবিত্র কুরআন ও হাদিসে নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায়ের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
১. কুরআন ও হাদিসের নির্দেশনা
সুরা নিসা (আয়াত ১০৩): আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন যে, মুমিনদের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে নামাজ আদায় করা ফরজ বা আবশ্যক।
জান্নাতের নিশ্চয়তা: নবীজি (সা.) বলেছেন, যারা সঠিক সময়ে এবং যথাযথভাবে নামাজ আদায় করবে, তাদের জন্য জান্নাতের নিশ্চয়তা রয়েছে।
২. আত্মশুদ্ধি ও গুনাহ মাফ
পবিত্রতার উদাহরণ: পাঁচ ওয়াক্ত নামাজকে একটি নির্মল নদীর সাথে তুলনা করা হয়েছে। যেমন পাঁচবার গোসল করলে শরীরে ময়লা থাকে না, তেমনি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ বান্দার গুনাহ ধুয়ে মুছে সাফ করে দেয়।
পার্থক্যকারী: মুনাফিক ও মুমিনদের মধ্যে পার্থক্য বোঝার অন্যতম মাধ্যম হলো ফজর ও এশার নামাজে উপস্থিতি।
৩. নামাজের বিশেষ মর্যাদা
ফেরেশতাদের ইবাদত: ফেরেশতারা নামাজের বিভিন্ন অংশ (রুকু, সিজদা, কিয়াম) আলাদাভাবে আদায় করেন, কিন্তু মানুষ এক নামাজেই সবকিছুর সওয়াব পায়।
পরকালের প্রথম হিসাব: কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব নেওয়া হবে। নামাজ সঠিক হলে অন্যান্য আমলও সহজ হয়ে যাবে।
দোয়ার স্বরূপ: যে ব্যক্তি খুশু-খুজুর সাথে নামাজ পড়ে, তার নামাজ তার জন্য দোয়া করে। আর অবহেলাকারীর নামাজ তাকে ভর্ৎসনা করে।
৪. জামাতে নামাজের ফজিলত
২৭ গুণ সওয়াব: একাকী নামাজ পড়ার চেয়ে জামাতে নামাজ আদায়ে ২৭ গুণ বেশি সওয়াব পাওয়া যায়।
পুরো রাত ইবাদতের সওয়াব: জামাতে এশা এবং ফজর আদায় করলে যথাক্রমে অর্ধরাত ও পুরো রাত ইবাদত করার মর্যাদা লাভ হয়।
সঠিক সময়ে নামাজ আদায় মুমিনের ঈমানকে শক্তিশালী করে এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভে সাহায্য করে। এটি একজন মুমিনের জীবনের পুঁজি স্বরূপ।
এসআর
মন্তব্য করুন: