[email protected] সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১১ ফাল্গুন ১৪৩২

ইসরায়েলি আগ্রাসন: জানুয়ারিতে ইব্রাহিমি মসজিদে ৫৭ ওয়াক্ত আজান বন্ধ

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১১:২২ এএম

ফিলিস্তিনের আল-আকসা ও ইব্রাহিমি মসজিদে গত জানুয়ারি মাসে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী

 ও ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও ধর্মীয় বিধিনিষেধ নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে। ফিলিস্তিনের ওয়াক্ফ ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাসিক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।


​আজান ও নামাজে বাধা
​প্রতিবেদনে জানানো হয়, জানুয়ারি মাসে হেবরন শহরের ঐতিহাসিক ইব্রাহিমি মসজিদে ৫৭ বার আজান দিতে বাধা দিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। এছাড়া আল-আকসা মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিদের ওপর কঠোর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। বিশেষ করে ফজরের নামাজে তরুণদের প্রবেশে বাধা দিয়ে তাদের পরিচয়পত্র পরীক্ষা ও হয়রানি করা হচ্ছে।


​আল-আকসায় অনুপ্রবেশ ও ইহুদিকরণ
​তথ্যমতে, গত এক মাসে অন্তত ২৮ বার আল-আকসা মসজিদে অনুপ্রবেশ চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীরা।
​অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা: ইসলামী ওয়াক্ফ বিভাগের মতে, প্রায় ৪,৩৯৭ জন ইহুদি বসতি স্থাপনকারী দলবদ্ধভাবে পুলিশের পাহারায় মসজিদে প্রবেশ করে ধর্মীয় উস্কানি দিয়েছে।


​পবিত্রতা লঙ্ঘন: জুমার খুতবা ও নামাজের সময় কিবলা প্রাঙ্গণ ও কুব্বতুস সাখরা এলাকায় ঢুকে তথাকথিত ধর্মীয় আচার পালন করেছে তারা, যা মসজিদের পবিত্রতার ওপর চরম আঘাত।
​ইব্রাহিমি মসজিদের বর্তমান পরিস্থিতি
​হেবরনের ইব্রাহিমি মসজিদে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। মন্ত্রণালয় জানায়:


​মসজিদের পূর্ব ফটক পুরোপুরি বন্ধ করে জানালাগুলো ত্রিপল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।
​কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই মসজিদের আশপাশে খনন কাজ চালানো হচ্ছে।


​প্রায় ৫৫০ জন ইসরায়েলি সেনা মসজিদে ঢুকে কর্মীদের সাথে দুর্ব্যবহার ও তল্লাশি চালিয়েছে।


​অন্যান্য উপাসনালয়ে হামলা
​আগ্রাসন শুধু মসজিদেই সীমাবদ্ধ নয়। গত বৃহস্পতিবার জেরুজালেমের গেথসেমানি চার্চে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের ওপর থুতু নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া হেবরনের জাওহার ও শহীদ মসজিদেও অনুপ্রবেশ চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। ফিলিস্তিন সরকারের মতে, এটি পুরো ফিলিস্তিনি জনপদকে ধর্মীয় ও মানসিকভাবে নিয়ন্ত্রণের এক নগ্ন অপচেষ্টা।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর