ইসলামে জামাতে নামাজ আদায় করার ওপর অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছেন বিশ্বনবী হজরত
মুহাম্মদ (সা.)। এটি কেবল ইবাদত নয়, বরং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও শৃঙ্খলার প্রতীক। জামাতে নামাজ পড়ার ফজিলত সম্পর্কে সহিহ বুখারির একাধিক হাদিসে গুরুত্বপূর্ণ বর্ণনা রয়েছে।
১. ইমামতির যোগ্যতা ও নিয়ম
মালিক ইবনে হুওয়াইরিস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন যে—একাধিক ব্যক্তি একত্রে থাকলে নামাজের সময় হলে একজন আজান ও ইকামত দেবেন। আর তাদের মধ্যে বয়সে যিনি বড়, তিনি ইমামতি করবেন। (বুখারি: ৬৫৮)
২. ফজরের নামাজের বিশেষ মর্যাদা
ফজরের নামাজ জামাতে আদায়ের গুরুত্ব অপরিসীম। আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, একাকী নামাজের চেয়ে জামাতে নামাজ পড়লে ২৫ গুণ বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। বিশেষ করে ফজরের সময় রাত ও দিনের ফেরেশতারা একত্রিত হন, যা মুমিনের জন্য এক বড় নিয়ামত। (বুখারি: ৬৪৮)
৩. এশার নামাজের সওয়াব ও দূরত্বের গুরুত্ব
মসজিদ থেকে ঘরের দূরত্ব যত বেশি হবে, নামাজে আসার পুণ্যও তত বাড়বে। আবু মুসা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ইমামের সঙ্গে জামাতে নামাজ পড়ার জন্য অপেক্ষা করে, তার মর্যাদা ওই ব্যক্তির চেয়ে অনেক বেশি, যে একাকী নামাজ পড়ে ঘুমিয়ে পড়ে। (বুখারি: ৬৫১).
৪. মুনাফিকদের জন্য সতর্কতা
ফজর ও এশার নামাজ জামাতে পড়া মুনাফিকদের জন্য সবচেয়ে কঠিন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেছেন, "এই দুই নামাজের ফজিলত জানলে মানুষ হামাগুড়ি দিয়ে হলেও মসজিদে আসত।" জামাত ত্যাগকারীদের ব্যাপারে রাসুল (সা.) এতটাই কঠোর ছিলেন যে, তিনি এক পর্যায়ে তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার ইচ্ছাও পোষণ করেছিলেন, যাতে মানুষ জামাতের গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারে। (বুখারি: ৬৫৭)
শিক্ষণীয় বিষয়:
জামাতে নামাজ পড়া কেবল অধিক সওয়াবের কাজই নয়, বরং এটি মুনাফিকের কাতার থেকে নিজেকে মুক্ত রাখার একটি মাধ্যম। তাই ব্যস্ততা সত্ত্বেও প্রতিটি মুমিনের উচিত অন্তত ফজর ও এশার জামাতে উপস্থিত হওয়ার চেষ্টা করা।
এসআর
মন্তব্য করুন: