[email protected] সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১১ ফাল্গুন ১৪৩২

শবে বরাতে বিশেষ নামাজ ও রোজা: ইসলামি বিধান ও সহিহ হাদিসের আলোকে সঠিক আমল

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ ৭:১৪ এএম

পবিত্র শাবান মাসের ১৫ তারিখ বা শবে বরাতকে কেন্দ্র করে মুসলিম সমাজে বিভিন্ন আমল

 প্রচলিত রয়েছে। তবে এর সঠিক ধর্মীয় বিধান নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করতে আলেম ও গবেষকগণ সহিহ হাদিসের আলোকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়েছেন:


​বিশেষ কোনো নামাজ নেই: শবে বরাতের রাতে পড়ার জন্য বিশেষ কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম বা আলাদা রাকাত সংখ্যার নামাজ রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে প্রমাণিত নয়। অন্যান্য নফল নামাজের মতোই এই রাতে নফল ইবাদত করা যেতে পারে। আলাদা কোনো নিয়ম বা নিয়ত সাব্যস্ত করা শরিয়তসম্মত নয়।


​শাবান মাসে রোজা: রাসুলুল্লাহ (সা.) শাবান মাসে অধিকাংশ দিন নফল রোজা রাখতেন। হজরত উসামা ইবনে জায়েদ (রা.)-এর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, এই মাসে বান্দার আমল আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়, তাই তিনি রোজাদার অবস্থায় আমল পেশ হওয়াকে পছন্দ করতেন।


​১৫ শাবানের রোজা: শুধুমাত্র ১৫ শাবানকে কেন্দ্র করে বিশেষ কোনো রোজার নির্দেশ সহিহ সূত্রে পাওয়া যায় না। তবে কেউ যদি 'আইয়ামে বীজ' বা প্রতি আরবি মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের নিয়মিত নফল রোজা রাখতে চান, তবে তিনি তা রাখতে পারেন।


​বর্জনীয় বিষয়: শবে বরাতকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট কোনো আমলকে 'সুন্নত' বা বিশেষ পদ্ধতি হিসেবে প্রচার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। নিয়ম ছাড়া ইবাদত বা ভিত্তিহীন প্রথা পালন করা থেকে সতর্ক থাকা জরুরি।


​করণীয় আমল: এই সময়ে বেশি বেশি দোয়া করা, সুস্থতা কামনা করা এবং আসন্ন রমজানের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া উত্তম। নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকিরের মাধ্যমে ব্যক্তিগতভাবে ইবাদতে মগ্ন হওয়া যেতে পারে।


​সারকথা: ইসলামে ইবাদতের মূল ভিত্তি হলো অনুসরণ। তাই শবে বরাতে ঘটা করে বিশেষ কোনো পদ্ধতি অবলম্বন না করে স্বাভাবিক নফল ইবাদত ও শাবান মাসে বেশি বেশি রোজার মাধ্যমেই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন সম্ভব।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর