[email protected] সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১১ ফাল্গুন ১৪৩২

রমজানে শয়তান বন্দি, তবু কেন মানুষ পাপে জড়ায়?

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ৭:১৮ এএম

হাদিস অনুযায়ী রমজান মাসে শয়তানকে শিকলবন্দি করা হয়। তা সত্ত্বেও সমাজে পাপ

 কাজ চলতে দেখা যায়। ইসলামি চিন্তাবিদ ও আলেমদের মতে এর পেছনে মূলত তিনটি প্রধান কারণ রয়েছে:


​১. নফস বা কুপ্রবৃত্তি
​পাপের একমাত্র উৎস শয়তান নয়, বরং মানুষের নিজের 'নফস' বা কুপ্রবৃত্তি অন্যতম কারণ। দীর্ঘ ১১ মাস শয়তানের প্ররোচনায় মানুষ যেসব মন্দ অভ্যাসে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, রমজানে শয়তান না থাকলেও সেই অভ্যাসের কারণে মানুষ গুনাহ করে ফেলে।


​২. সব শয়তান বন্দি নয়
​অনেক আলেমের মতে, রমজানে সব শয়তানকে নয়, বরং 'মারাদাহ' বা সবচেয়ে শক্তিশালী ও অবাধ্য শয়তানদের বন্দি করা হয়। ফলে সাধারণ শয়তানদের কিছুটা প্রভাব থেকে যেতে পারে।


​৩. পরিবেশ ও মানুষের প্রভাব
​মানুষরূপী শয়তান বা মন্দ বন্ধুদের প্রভাব এবং দীর্ঘদিনের অর্জিত কু-অভ্যাসগুলো রমজানেও সক্রিয় থাকে। অর্থাৎ, শয়তান বন্দি থাকলেও মানুষের ভেতরকার মন্দ স্বভাবগুলো হুট করে চলে যায় না।


​আলেমদের বিভিন্ন ব্যাখ্যা:
​ইমাম কুরতুবির মতে: যারা রোজার যথাযথ আদব ও শর্ত মেনে চলে না, তাদের ওপর শয়তানের প্রভাব পুরোপুরি কমে না।


​আক্ষরিক বনাম রূপক: একদল আলেম মনে করেন শয়তান আক্ষরিক অর্থেই শেকলে বাধা থাকে। অন্যদলের মতে, এটি একটি রূপক প্রকাশ; যার অর্থ রমজানে নেক আমলের আধিক্যের কারণে শয়তানের ক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়ে।

​রমজান হলো একটি প্রশিক্ষণ বা আত্মশুদ্ধির মাস। শয়তান বন্দি থাকায় পাপের পথ কঠিন হলেও, নিজের নফস এবং কু-অভ্যাস জয় করার দায়িত্বটি মানুষের নিজের।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর