ইসলামী বর্ষপঞ্জির অষ্টম মাস শাবান। রহমত, বরকত ও মাগফিরাতের মাস রমজানের ঠিক
আগের এই সময়টিকে বলা হয় 'ইবাদতের রিহার্সাল' বা প্রস্তুতির শ্রেষ্ঠ সময়। রাসুলুল্লাহ (সা.) এই মাসকে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন এবং রমজানের আগে নিজেকে মানসিক ও আত্মিকভবে প্রস্তুত করতে অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেশি নফল রোজা রাখতেন।
আসন্ন রমজানকে অর্থবহ করে তুলতে শাবান মাস থেকেই যে সাতটি প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি:
১. ইবাদতের অভ্যাস গড়ে তোলা
হুট করে রমজানে ইবাদত বাড়ানো কঠিন হতে পারে। তাই শাবান থেকেই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায়ের পাশাপাশি নফল নামাজ ও নফল রোজার মাধ্যমে শরীর ও মনকে অভ্যস্ত করে তুলুন। প্রতিদিন অন্তত কয়েক পৃষ্ঠা কোরআন তিলাওয়াতের নির্দিষ্ট রুটিন তৈরি করুন।
২. আন্তরিক তওবা ও আত্মসমালোচনা
যেকোনো বড় সফরের আগে মালিন্য দূর করা প্রয়োজন। পেছনের গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে মনকে পবিত্র করুন। নিজেকে প্রশ্ন করুন—আপনি কি মানুষের হক নষ্ট করেছেন? আপনার আচরণ কি সুন্দর ছিল? এই আত্মসমালোচনাই আপনার রমজানকে সার্থক করবে।
৩. মন ও চরিত্রের পরিশোধন
রমজান মানেই সংযম। তাই রাগ, হিংসা, অহংকার এবং গিবতের মতো কু-অভ্যাসগুলো শাবান মাসেই বর্জন করার চেষ্টা করুন। মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক তৈরি করাও ইবাদতের অংশ।
৪. বরকতময় দোয়া
রমজান পর্যন্ত পৌঁছানোই একটি বড় নেয়ামত। শাবান মাসে এই দোয়াটি বেশি বেশি করা উচিত—
"হে আল্লাহ, আমাদের শাবান ও রজব মাসে বরকত দিন এবং আমাদেরকে রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন।
৫. অনর্থক সময় অপচয় রোধ
সোশ্যাল মিডিয়া বা অহেতুক আড্ডায় আমাদের অনেক সময় নষ্ট হয়। রমজানের মূল্যবান সময় ইবাদতে কাটাতে এখনই আপনার 'স্ক্রিন টাইম' কমিয়ে আনার প্র্যাকটিস শুরু করুন।
৬. দান-সদকার চর্চা
অভাবী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অভ্যাস শাবান থেকেই শুরু হোক। আপনার আশেপাশের নিম্নবিত্ত মানুষগুলো যেন স্বাচ্ছন্দ্যে রমজান কাটাতে পারে, সেই দায়িত্ব নেওয়া একটি মহান ইবাদত।
৭. বাস্তবসম্মত রুটিন তৈরি
রমজানে সেহরি, ইফতার, অফিস এবং ব্যক্তিগত ইবাদতের মধ্যে ভারসাম্য আনতে আগেভাগেই একটি লিখিত রুটিন তৈরি করুন। এতে রমজান শুরু হলে কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে না।
সারকথা: শাবান মাস হলো ইবাদতের বীজ বপনের সময়। এখানে আপনি যতটা শ্রম দেবেন, রমজানে ততটা সমৃদ্ধ ফসল (সওয়াব) ঘরে তুলতে পারবেন।
এসআর
মন্তব্য করুন: