[email protected] শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬
২৭ পৌষ ১৪৩২

জুমার দিনের সুন্নত আমল

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:৫৩ পিএম

ইসলামে জুমার নামাজের মর্যাদা অত্যন্ত উচ্চ। এ দিনটি একজন

মুসলমানের জন্য সাপ্তাহিক ঈদের মতো। তাই জুমার নামাজ আদায়ে শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি নেওয়া সুন্নত এবং প্রশংসনীয় আমল হিসেবে বিবেচিত।
জুমার প্রস্তুতি শুরু হয় নিজ ঘর থেকেই। গোসল করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, সুগন্ধি ব্যবহার করা এবং পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর পোশাক পরিধান করা জুমার দিনের অন্যতম সুন্নত। এর মাধ্যমে ইবাদতের প্রতি সম্মান ও গুরুত্ব প্রকাশ পায়।
প্রস্তুতি শেষে শান্তভাবে, বিনয় ও ধীরস্থিরতার সঙ্গে মসজিদের দিকে রওনা হওয়া উচিত। তাড়াহুড়া করা, অন্যকে কষ্ট দেওয়া বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকা জরুরি। যথাসম্ভব আগেভাগে মসজিদে পৌঁছানোর ব্যাপারে বিশেষ উৎসাহ দেওয়া হয়েছে, কারণ আগে উপস্থিত হওয়ার সওয়াব অনেক বেশি।


মসজিদে প্রবেশের পর বসার আগে দুই রাকাত তাহিয়্যাতুল মসজিদ নামাজ আদায় করা সুন্নত। এরপর চেষ্টা করতে হবে ইমামের কাছাকাছি ও সামনের কাতারে বসার। তবে এ ক্ষেত্রে কাউকে কষ্ট দেওয়া, মানুষের কাঁধ ডিঙিয়ে সামনে যাওয়া বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা অনুচিত এবং জুমার আদবের পরিপন্থী।


ইমাম খুতবার জন্য মিম্বরে ওঠার আগ পর্যন্ত সময়টুকু নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়ায় কাটানো উত্তম। যারা আগেভাগে মসজিদে আসেন, তাদের জন্য এ সময় আল্লাহর ইবাদতে ব্যয় করার বিশেষ ফজিলত রয়েছে।


হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, জুমার দিনে প্রথম সময়ে মসজিদে আগমনকারী বড় কোরবানির সওয়াব পায়, পরবর্তী সময়গুলোতেও ধাপে ধাপে সওয়াব কমতে থাকে। এতে আগেভাগে উপস্থিত হওয়ার গুরুত্ব স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।


ইমাম যখন খুতবা শুরু করেন, তখন মুসল্লিদের দায়িত্ব হলো সম্পূর্ণ মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা। এ সময় কথা বলা, অপ্রয়োজনীয় কাজ করা কিংবা পাশের কাউকে চুপ থাকতে বলাও নিষিদ্ধ। খুতবার প্রতি মনোযোগ জুমার নামাজের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।


খুতবা শেষে ইকামত হলে খুশু ও একাগ্রতার সঙ্গে জামাতে দুই রাকাত ফরজ নামাজ আদায় করতে হবে। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি জুমার দিনে গোসল করে, খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনে এবং নামাজ আদায় করে—তার দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ এবং অতিরিক্ত কয়েক দিনের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।


নামাজ শেষে নির্ধারিত জিকির ও দোয়া আদায় করা সুন্নত। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী কাজে ফিরে যাওয়া বৈধ। কোরআনে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—নামাজ শেষ হলে মানুষ যেন আল্লাহর অনুগ্রহ অনুসন্ধানে পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে। তবে জুমার পরের সুন্নত নামাজ আদায় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা অবহেলা করা উচিত নয়।


মনে রাখতে হবে, জুমার নামাজ জোহরের বিকল্প নয়; বরং এটি একটি স্বতন্ত্র ফরজ ইবাদত। যথাযথ প্রস্তুতি, আদব ও সুন্নত অনুসরণ করে জুমার নামাজ আদায় করলে একজন মুসলমান আল্লাহর বিশেষ রহমত ও অগণিত সওয়াব লাভের আশা করতে পারে।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর