[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি ২০২৬
২৪ পৌষ ১৪৩২

নবী ঈসার (আ.) জীবনীতে মুসলমানদের জন্য যে শিক্ষা রয়েছে

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:৩৬ পিএম

নবী ঈসা (আ.)-এর জীবন থেকে মুসলমানদের জন্য শিক্ষণীয় দিক


হজরত ঈসা (আ.) ছিলেন আল্লাহর একজন মহান নবী, যিনি নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর আগমনের বহু আগেই পৃথিবীতে প্রেরিত হন। আল্লাহর বিশেষ কুদরতে তিনি পিতা ছাড়া জন্মগ্রহণ করেন এবং শৈশব থেকেই মানুষের কাছে সত্যের বার্তা পৌঁছে দেন। ইসলামের দৃষ্টিতে তিনি আল্লাহর বান্দা ও রাসুল—এর বেশি বা কম নন।
ইসলামে নবী ঈসা (আ.)-এর অবস্থান
পবিত্র কোরআনে নবী ঈসা (আ.)-কে সম্মানিত নবী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি মানুষকে এক আল্লাহর ইবাদতের দিকে আহ্বান জানান এবং শিরক ও ভ্রান্ত বিশ্বাস থেকে দূরে থাকতে বলেন। আল্লাহর অনুমতিতে তিনি অসুস্থদের সুস্থ করা এবং মৃতকে জীবিত করার মতো মু‘জিজা প্রদর্শন করেন, যা তার নবুয়তের সত্যতার প্রমাণ।
তাওহীদ ও নৈতিকতার শিক্ষা
নবী ঈসা (আ.)-এর দাওয়াতের মূল বিষয় ছিল তাওহীদ—আল্লাহর একত্বে বিশ্বাস। তিনি মানুষকে ন্যায়পরায়ণতা, সততা ও পবিত্র জীবনযাপনের দিকে আহ্বান জানান। দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী ভোগ-বিলাসের পরিবর্তে আখিরাতের চিরস্থায়ী সফলতাকে অগ্রাধিকার দিতে শেখান।
পবিত্র ও হালাল জীবনধারা
তার শিক্ষায় পবিত্রতার গুরুত্ব বিশেষভাবে উঠে আসে—খাবার, উপার্জন, চিন্তা ও কাজ সব ক্ষেত্রেই। ইসলাম শিক্ষা দেয়, মানুষের গ্রহণ করা প্রতিটি বিষয় তার আত্মিক অবস্থাকে প্রভাবিত করে। তাই হালাল ও তাইয়্যিব জীবনযাপন শুধু খাদ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি চরিত্র, আচরণ ও জীবনব্যবস্থার অংশ।
আজকের সময়েও প্রাসঙ্গিকতা
আধুনিক বিশ্বে হালাল ও নৈতিক জীবনধারা বজায় রাখা অনেক সময় চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে। তবুও নবী ঈসা (আ.)-সহ সব নবীর আদর্শ মুসলমানদের দৃঢ়তা ও সাহস জোগায়। তারা শিখিয়েছেন, ঈমান কখনো সুবিধার ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং সত্য ও আল্লাহর সন্তুষ্টির ওপর প্রতিষ্ঠিত।
চিরন্তন বার্তা
নবী ঈসা (আ.)-এর জীবন মুসলমানদের জন্য কেবল অতীতের ঘটনা নয়, বরং বর্তমান ও ভবিষ্যতের পথনির্দেশনা। তার জীবন প্রমাণ করে, সব নবীর লক্ষ্য এক—মানুষকে আল্লাহর ইবাদত, পবিত্রতা ও কল্যাণকর জীবনের পথে পরিচালিত করা।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর