[email protected] সোমবার, ৫ জানুয়ারি ২০২৬
২২ পৌষ ১৪৩২

আতশবাজির নিন্দায় আহমাদুল্লাহ ও আজহারী

‘এরচেয়েও বিকট আওয়াজ, ভয়ংকর আগুন তোমাকে দিশেহারা করার অপেক্ষায়’

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:৪২ এএম

নতুন বছরকে ঘিরে পটকা ও আতশবাজি ফোটানো নিয়ে

আবারও উদ্বেগ ও সমালোচনা প্রকাশ করেছেন দেশের দুই জনপ্রিয় ইসলামী চিন্তাবিদ—শায়খ আহমাদুল্লাহ ও মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারী।
প্রতিবছর থার্টি ফার্স্ট নাইটে আতশবাজি ও পটকা ব্যবহারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও বাস্তবে এর ব্যতিক্রমই বেশি দেখা যায়। এবার পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল ছিল, কারণ সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হচ্ছিল। এ উপলক্ষে ঢাকা মহানগরে আতশবাজি, পটকা, ফানুস ও গ্যাস বেলুন ওড়ানোর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। তবুও এসব নির্দেশনা উপেক্ষা করে অনেক জায়গায় উৎসবের নামে শব্দ ও আগুনের প্রদর্শনী চলতে দেখা যায়।
এই পরিস্থিতির নিন্দা জানিয়ে শায়খ আহমাদুল্লাহ তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বলেন, গভীর রাতে আতশবাজির বিকট শব্দে শিশুদের ঘুম ভেঙে আতঙ্কিত হওয়া, হৃদরোগীদের কষ্ট পাওয়া এবং পাখিদের দিশেহারা হয়ে পড়া কোনো সভ্য সমাজের পরিচয় হতে পারে না। তিনি এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে সামাজিকভাবে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, অল্প কিছু দায়িত্বহীন মানুষের কারণে পুরো সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে না। থার্টি ফার্স্ট নাইট উদযাপনের নামে যে বিশৃঙ্খলা চলছে, তা আইন করে বন্ধ করা দরকার। একই সঙ্গে পাড়া-মহল্লাভিত্তিক সচেতন উদ্যোগ নেওয়ার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
আতশবাজি ও ফানুসকে ‘আগুন নিয়ে খেলাধুলা’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন—যে রাতে আতঙ্কে পাখিরা উড়াউড়ি করে, রাস্তার প্রাণীরা দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে, দরিদ্র মানুষের ঘর আগুনে পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয় এবং বিকট শব্দে মায়ের কোল শূন্য হয়ে যায়—সেখানে মানুষের শ্রেষ্ঠত্বের দাবি কোথায়?
অন্যদিকে, মাওলানা মিজানুর রহমান আজহারীও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, যে শব্দ আর আগুনের ঝলকানি আজ মানুষকে আনন্দ দিচ্ছে, তার চেয়েও ভয়াবহ শব্দ ও আগুন একদিন মানুষকে দিশেহারা করতে পারে—তবুও মানুষ সচেতন হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, পটকা ও ফানুসের এই উন্মাদনা শুধু পরিবেশের ক্ষতি করছে না, ধীরে ধীরে মানুষের মানবিক বোধও নিঃশেষ করে দিচ্ছে। সামান্য খরচের এই আয়োজন কখনো কখনো বড় অগ্নিকাণ্ড ও বিপুল ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
আজহারীর ভাষায়, এক রাতের সাময়িক উল্লাসের জন্য ঘনবসতিপূর্ণ শহরে অসংখ্য শিশু আতঙ্কিত হয়, মায়েদের মনে ভয় বাসা বাঁধে, নিরীহ পশুপাখি প্রাণভয়ে ছোটাছুটি করে এবং অনেক সময় নীরবে মারা যায়। তিনি প্রশ্ন রাখেন—উদযাপনের নামে এই উন্মত্ততা কি মানবিকতার চেয়েও বড় হতে পারে?

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর