[email protected] বুধবার, ৭ জানুয়ারি ২০২৬
২৪ পৌষ ১৪৩২

বিশ্ব ইজতেমার বিষয়ে যা জানালো সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ ১২:৩৮ এএম

ফাইল ছবি

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে সব ধরনের জনসমাবেশ সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এর আওতায় খুরুজের জোড়সহ কোনো ধর্মীয় বা সাংগঠনিক কর্মসূচি আয়োজন করা যাবে না।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখা-৬ থেকে জারি করা এক আদেশে এ নির্দেশনার কথা জানানো হয়।
আদেশে উল্লেখ করা হয়, আগামী ২ থেকে ৪ জানুয়ারি খুরুজের জোড় এবং ২২ থেকে ২৪ জানুয়ারি বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনের জন্য আবেদন জমা পড়েছে।

তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার স্বার্থে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত ইজতেমা ময়দানে কোনো ধরনের সমাবেশ না করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, তাবলীগ জামায়াত বাংলাদেশ শুরায়ী নেজাম (জুবায়েরপন্থী) আগামী ২–৪ জানুয়ারি তিন দিনব্যাপী ‘খুরুজের জোড়’ আয়োজনের প্রস্তুতি নেয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে তাবলীগ জামায়াত বাংলাদেশ (সাদপন্থী) অভিযোগ করে যে, খুরুজের জোড়ের নামে ইজতেমা আয়োজন করা হচ্ছে। তারা জানায়, খুরুজের জোড় বন্ধ না হলে তারা ২২–২৪ জানুয়ারি বিশ্ব ইজতেমা আয়োজন করবে। উভয় পক্ষই তাদের কর্মসূচির জন্য সরকারের কাছে আলাদাভাবে আবেদন করে।

পরবর্তীতে সরকার দুই পক্ষের আবেদনই নাকচ করে দিয়ে নির্বাচনের আগে বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে কোনো ধরনের জমায়েত না করার নির্দেশ জারি করে।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, চলতি বছরের ২ নভেম্বর ধর্ম উপদেষ্টার সভাপতিত্বে তাবলীগ জামায়াতের উভয় পক্ষকে নিয়ে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়—২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে না। নির্বাচন শেষে নতুন সরকারের তত্ত্বাবধানে ইজতেমা আয়োজনের কথা জানানো হয়।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে জটিলতা দেখা দেয়। জুবায়েরপন্থীরা প্রথম জোড় ইজতেমার পর আগামী বছরের ২–৪ জানুয়ারি খুরুজের মজমা আয়োজনের উদ্যোগ নেয় এবং সারা দেশে চিঠি পাঠিয়ে অংশগ্রহণের আহ্বান জানায়।
এদিকে সাদপন্থীরা বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, ধর্ম উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত আবেদন করে ২২–২৪ জানুয়ারি বিশ্ব ইজতেমা আয়োজনের অনুমতি ও সহযোগিতা চায়।

এ বিষয়ে বিশ্ব ইজতেমার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহীন খান গণমাধ্যমকে জানান, তারা সরকারি আদেশ পেয়েছেন এবং তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর