[email protected] শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬
২৬ পৌষ ১৪৩২

দীর্ঘদিন পর প্রাণ ফিরেছে গাজার ঐতিহাসিক ওমরি মসজিদে

প্রতিদিনের বাংলা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ ৬:৩৪ পিএম

দীর্ঘ নীরবতার পর আবারও প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে উঠল গাজার

ঐতিহাসিক ওমরি মসজিদ
দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধ থাকার পর আবারও আজান ও জুমার নামাজের ধ্বনিতে মুখর হয়েছে গাজার প্রাচীন ওমরি মসজিদ। ইসরায়েলি হামলায় মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির পর প্রায় দুই বছরের বেশি সময় নীরব থাকার পর সংস্কার শেষে মসজিদটি পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে। আবেগ, অশ্রু ও দোয়ার পরিবেশে মুসল্লিরা আবারও তাদের ঐতিহাসিক ইবাদতকেন্দ্রে ফিরে আসেন।
গাজা নগরের পুরোনো শহর এলাকায় অবস্থিত এই মসজিদটি শুধু গাজার সবচেয়ে পুরোনো মসজিদই নয়, বরং বিশ্বের প্রাচীন মসজিদগুলোর অন্যতম। হামলার সময় মসজিদের মিনার, দেয়াল ও ছাদ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এটি দীর্ঘদিন ব্যবহার অনুপযোগী ছিল। সংস্কার কাজ শেষ হওয়ার পর শুক্রবার প্রথম জুমার নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মসজিদটি খুলে দেওয়া হয়।
এই দিনটি যেন পুরোনো গাজা শহরের জন্য নতুন করে প্রাণ ফিরে পাওয়ার মুহূর্ত হয়ে ওঠে। প্রথম জুমায় বিপুলসংখ্যক মুসল্লির উপস্থিতিতে মসজিদ প্রাঙ্গণ ভরে যায়। দোয়ার জন্য উত্থিত হাত, জিকিরের ধ্বনি ও আবেগঘন পরিবেশে স্পষ্ট হয়ে ওঠে—ধ্বংস ও কষ্টের মাঝেও গাজাবাসীর বিশ্বাস ও দৃঢ়তা অটুট।
একজন মুসল্লি জানান, মসজিদে ফিরে এসে তিনি আল্লাহর সান্নিধ্য ও অন্তরের প্রশান্তি অনুভব করছেন। দীর্ঘ সময় পর এই পবিত্র স্থানে সমবেত ইবাদত যেন হারানো স্মৃতি ও আত্মিক শক্তি একসঙ্গে ফিরিয়ে এনেছে।
গাজার ইতিহাসের জীবন্ত সাক্ষী
ওমরি মসজিদ কেবল একটি ইবাদতকেন্দ্র নয়, এটি গাজার ইতিহাসের নীরব দলিল। পুরোনো শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এই মসজিদ আশপাশের ইসলামী স্থাপত্য ও ঐতিহ্যের সঙ্গে মিলেমিশে একটি অনন্য সাংস্কৃতিক পরিচয় গড়ে তুলেছে। বিশেষ করে রমজান মাসে এখানকার রাতগুলো গাজাবাসীর কাছে গভীর তাৎপর্য বহন করে।
এক মুসল্লির ভাষ্যে, নতুন বছরের শুরুতে মসজিদ পুনরায় চালু হওয়া একটি আশাবাদের বার্তা। তিনি বলেন, ওমরি মসজিদ গাজার সবচেয়ে বড় ও প্রাচীন মসজিদগুলোর একটি, যা এই ভূখণ্ডে মুসলমানদের দীর্ঘ উপস্থিতির প্রমাণ বহন করে। সব ধরনের দখল ও মুছে ফেলার প্রচেষ্টার আগেও এই মসজিদ অস্তিত্ব নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।
আরেক মুসল্লির মতে, মসজিদের পুনর্নির্মাণ একটি বরকতময় কাজ। এটি শুধু নামাজ আদায়ের স্থান নয়, বরং গাজা ও ফিলিস্তিনের সাংস্কৃতিক স্মৃতি ও পরিচয়ের প্রতীক।
বহু যুগ পেরিয়ে টিকে থাকার গল্প
ওমরি মসজিদের সংস্কার কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে থাকা আওকাফ বিভাগের পর্যবেক্ষক শায়খ তারেক হানিয়া জানান, মসজিদটি ইতিহাসের অন্তত ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় অতিক্রম করেছে। একসময় এটি ছিল পৌত্তলিক উপাসনালয়, পরে বিভিন্ন যুগে গির্জা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। খলিফা হজরত ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর শাসনামলে এটি মসজিদে রূপান্তরিত হয়।
তিনি বলেন, ইতিহাসের নানা সময়ে ক্রুসেডার ও বাইজেন্টাইনসহ বিভিন্ন শক্তির আক্রমণে মসজিদটি বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়েও এটি হামলার শিকার হলেও স্থানীয় মুসল্লিদের দৃঢ়তা ও ভালোবাসার কারণে মসজিদটি টিকে আছে।
তারেক হানিয়ার ভাষায়, ওমরি মসজিদের পুনরায় উদ্বোধন শুধু একটি স্থাপনা সংস্কারের ঘটনা নয়—এটি একটি স্পষ্ট বার্তা যে গাজার আত্মিক জীবন ধ্বংস করা সম্ভব নয়। অবরোধ ও আগ্রাসন যতই কঠিন হোক, আল্লাহর ঘর মানুষের উপস্থিতিতেই আবার আলোয় ভরে উঠবে।

এসআর

মন্তব্য করুন:

সম্পর্কিত খবর