ক্রিকেটে প্রতিনিয়ত নতুন রেকর্ড তৈরি হয়, আবার পুরোনো অনেক কীর্তিও ছাড়িয়ে যান নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়েরা।
ক্রিকেটের ইতিহাসে বিশেষভাবে আলোচিত এমন পাঁচটি রেকর্ড তুলে ধরা হলো।
টেস্ট ক্রিকেটে ব্যাটিংয়ের কিংবদন্তি স্যার ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যানের নাম এলেই তাঁর অবিশ্বাস্য ব্যাটিং গড়ের কথা সামনে আসে। ৫২টি টেস্টে ৮০ ইনিংস খেলে তাঁর গড় ছিল ৯৯.৯৪। শেষ টেস্ট ইনিংসে মাত্র চার রান করতে পারলে এই গড় ১০০-তে পৌঁছাত।
দীর্ঘ সময় ধরে এত উঁচু ব্যাটিং গড় ধরে রাখার নজির আর কোনো ব্যাটারের নেই। আধুনিক ক্রিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা, খেলার গতি ও ব্যাটিংয়ের পরিবর্তিত কৌশলের কারণে ব্র্যাডম্যানের এই কীর্তি অতিক্রম করা অত্যন্ত কঠিন বলে বিবেচিত হয়।
টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের রেকর্ড শ্রীলঙ্কার সাবেক স্পিনার মুত্তিয়া মুরালিধরনের দখলে। তাঁর সংগ্রহে রয়েছে ৮০০ উইকেট, যা তাঁকে এই সংস্করণের ইতিহাসে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
দীর্ঘ ক্যারিয়ার, ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ও অসাধারণ বোলিং দক্ষতার সমন্বয়ে তিনি এই মাইলফলকে পৌঁছান। টেস্ট ম্যাচের সংখ্যা, বোলারদের কাজের চাপ সামলানোর পরিকল্পনা এবং খেলোয়াড়দের বিশ্রামের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় তাঁর রেকর্ড ভাঙা সহজ হবে না।
১৯৫৬ সালে ইংল্যান্ডের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অ্যাশেজ সিরিজের একটি টেস্টে ইতিহাস গড়েন ইংলিশ অফ স্পিনার জিম লেকার। ম্যাচটির দুই ইনিংস মিলিয়ে তিনি ৯০ রান দিয়ে ১৯টি উইকেট নেন।
একটি টেস্টে প্রতিপক্ষের ২০ উইকেটের মধ্যে ১৯টিই এক বোলারের দখলে নেওয়ার ঘটনা ক্রিকেটের বিরলতম অর্জনগুলোর একটি। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো বোলার এই কীর্তি ছাড়িয়ে যেতে পারেননি। তাই লেকারের এই পারফরম্যান্সকে টেস্ট ইতিহাসের অন্যতম বিস্ময়কর রেকর্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বর্তমান ক্রিকেটে ৫০ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক টেস্ট খেলার কথা প্রায় কল্পনাতীত। তবে ক্রিকেটের শুরুর দিকের যুগে দীর্ঘ সময় খেলার নজির ছিল।
১৯২৯-৩০ সালে ইংল্যান্ডের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে উইলফ্রেড রোডস ও জর্জ গান—দুজনই পঞ্চাশোর্ধ্ব বয়সে খেলেছিলেন। রোডস টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে খেলা ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিত।
কিংস্টনে সিরিজের শেষ টেস্টে ক্লিফোর্ড রোচকে আউট করার ঘটনায়ও তাঁদের নাম ইতিহাসে উঠে আসে। গান ক্যাচ ধরেন এবং রোডস উইকেটটি নেন। দুজনের বয়স মিলিয়ে এই আউটের ঘটনাটি ক্রিকেটের ব্যতিক্রমী পরিসংখ্যানগুলোর একটি হয়ে আছে।
ইংল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটার উইলফ্রেড রোডসের আরেকটি উল্লেখযোগ্য কীর্তি তাঁর দীর্ঘ টেস্ট ক্যারিয়ার। ১৮৯৯ সালে অভিষেকের পর ১৯৩০ সাল পর্যন্ত তিনি টেস্ট ক্রিকেট খেলেছেন। অর্থাৎ তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ারের বিস্তৃতি ছিল তিন দশকেরও বেশি।
আধুনিক ক্রিকেটে আন্তর্জাতিক সূচির চাপ, ফিটনেসের চাহিদা এবং খেলোয়াড়দের ক্যারিয়ারের স্বাভাবিক সীমাবদ্ধতার কারণে এত দীর্ঘ সময় টেস্ট খেলা কঠিন। ভারতের কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারও প্রায় ২৪ বছর টেস্ট খেলার পর অবসরে যান। ফলে রোডসের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের রেকর্ড অতিক্রম করা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই রয়ে গেছে।
ক্রিকেটের ইতিহাসে এসব রেকর্ড শুধু পরিসংখ্যান নয়; এগুলো দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতা, অসাধারণ দক্ষতা ও ব্যতিক্রমী পারফরম্যান্সের স্বাক্ষর। নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটাররা ভবিষ্যতে কোন রেকর্ড ভাঙতে পারবেন, তা সময়ই বলে দেবে।
এসআর