ভারতে বসছে ২০২৬ কমনওয়েলথ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ, এখন শুধু মাঠ কাঁপাতে প্রস্তুত বাংলাদেশ।
আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের জাতীয় খেলা কাবাডিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। আগামী অক্টোবর মাসে ভারতের আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘কমনওয়েলথ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ’। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাবাডিকে আরও জনপ্রিয় ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতেই এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
কমনওয়েলথ স্পোর্ট ফেডারেশন সম্প্রতি অ্যামেচার কাবাডি ফেডারেশন অব ইন্ডিয়াকে (AKFI) পাঠানো আনুষ্ঠানিক চিঠিতে এই প্রতিযোগিতার অনুমোদন দিয়েছে। সূচি অনুযায়ী আগামী ১০ অক্টোবর থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এই আসর। ভারতের গুজরাটের আহমেদাবাদ শহরে অনুষ্ঠিতব্য এই চ্যাম্পিয়নশিপে কমনওয়েলথভুক্ত একাধিক দেশ অংশ নেবে।

বিশ্ব কাবাডিতে বাংলাদেশের অবস্থান বরাবরই সম্মানজনক। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার কাবাডি অঙ্গনে বাংলাদেশ অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে পরিচিত। ঢাকায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কাবাডি টুর্নামেন্টগুলোতে ধারাবাহিক ভালো পারফরম্যান্স রয়েছে বাংলাদেশের। ফলে এবারের কমনওয়েলথ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপেও বাংলাদেশকে সম্ভাবনাময় প্রতিযোগী হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের পাশাপাশি বাংলাদেশও শীর্ষ সারির দল হিসেবে মাঠে নামবে বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের পুরুষ ও নারী উভয় কাবাডি দল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে। তরুণ খেলোয়াড়দের উত্থান এবং ফিটনেসভিত্তিক আধুনিক প্রস্তুতি দলের প্রতি আশাবাদ বাড়াচ্ছে।
বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশন সূত্রে জানা গেছে, এই টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে জাতীয় পুরুষ ও নারী দলের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ক্যাম্প আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। শুধু দেশীয় ক্যাম্প নয়, প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের বিষয়েও আলোচনা চলছে। খেলোয়াড়দের ফিটনেস, ডিফেন্স কৌশল ও রেইডিং দক্ষতা বাড়াতে বিদেশি প্রশিক্ষক যুক্ত করার চিন্তাভাবনাও রয়েছে বলে জানা গেছে।

ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, অলিম্পিকের পর কমনওয়েলথ কাঠামো আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্ল্যাটফর্ম। যদিও কাবাডি এখনো কমনওয়েলথ গেমসের স্থায়ী ডিসিপ্লিন নয়, তবে এই ধরনের চ্যাম্পিয়নশিপ ভবিষ্যতে খেলাটিকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশের জন্য এটি শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণেরও বড় সুযোগ।
যদি সঠিক পরিকল্পনা, দীর্ঘমেয়াদি ক্যাম্প এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রস্তুতি নিশ্চিত করা যায়, তাহলে এবারের আসরে বাংলাদেশ বড় চমক দেখাতে পারে। দেশের জাতীয় খেলাকে ঘিরে নতুন প্রজন্মের আগ্রহও এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
কাবাডি শুধু বাংলাদেশের জাতীয় খেলাই নয়, এটি দেশের ক্রীড়া ঐতিহ্য ও আবেগেরও বড় অংশ। আন্তর্জাতিক মঞ্চে যখন নতুন করে কাবাডির বিস্তার ঘটছে, তখন কমনওয়েলথ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপ বাংলাদেশের সামনে খুলে দিচ্ছে নতুন সম্ভাবনার দরজা।
এখন প্রয়োজন শুধু সঠিক প্রস্তুতি, পেশাদার পরিকল্পনা এবং খেলোয়াড়দের প্রতি পূর্ণ সমর্থন। কারণ ভারতের মাটিতে আসন্ন এই লড়াই শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়— এটি হতে পারে বাংলাদেশের কাবাডির নতুন ইতিহাস লেখার মঞ্চ।
এসআর