এক সময় বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দল ছিল ইতালি।
চারবারের বিশ্বকাপজয়ী এই দল থেকেই উঠে এসেছে পাওলো মালদিনি, আলেসান্দ্রো দেল পিয়েরো ও জিয়ানলুইজি বুফনের মতো কিংবদন্তিরা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেই ঐতিহ্য যেন অতীতেই আটকে গেছে। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করতে ব্যর্থ হয়েছে ইতালি।
২০১৮ ও ২০২২ সালের পর ২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব থেকেও ছিটকে গেছে তারা। অপেক্ষাকৃত দুর্বল দল বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিপক্ষে হারের পরই নিশ্চিত হয় তাদের বিদায়। ফলে ৪৮ দলের সম্প্রসারিত বিশ্বকাপেও দর্শক হিসেবেই থাকতে হবে আজ্জুরিদের।
কেন বারবার এমন ব্যর্থতা—তার পেছনে রয়েছে বেশ কিছু কাঠামোগত ও কৌশলগত সমস্যা।
যুব উন্নয়ন ও পরিকাঠামোর ঘাটতি:
একসময় ইতালির ক্লাবগুলো থেকে নিয়মিত বিশ্বমানের তরুণ ফুটবলার উঠে আসত। এখন সিরি’এ ক্লাবগুলো অভিজ্ঞ বা বিদেশি খেলোয়াড়দের উপর বেশি নির্ভর করছে। এতে স্থানীয় তরুণরা পর্যাপ্ত সুযোগ পাচ্ছে না। আধুনিক স্টেডিয়াম ও অ্যাকাডেমিতে বিনিয়োগের ঘাটতিও উন্নয়নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কৌশলগত অস্থিরতা:
ইতালির ঐতিহ্যগত শক্তি ছিল শক্ত রক্ষণভাগ। কিন্তু আধুনিক আক্রমণভিত্তিক ফুটবলে মানিয়ে নিতে গিয়ে দলটি নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দ হারিয়েছে। নির্দিষ্ট কোনো খেলার ধরন স্থির করতে না পারায় বড় ও ছোট—সব দলের বিপক্ষেই সমস্যায় পড়ছে তারা।
কোচিং পরিকল্পনার দুর্বলতা:
দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাব এবং দল নির্বাচনে ধারাবাহিকতার ঘাটতি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং তরুণদের কম সুযোগ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। বিভিন্ন স্তরে ভিন্ন ভিন্ন কোচিং দর্শন দলীয় ঐক্যে প্রভাব ফেলছে।
খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সে পতন:
বর্তমান স্কোয়াডে আগের মতো ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখা যাচ্ছে না। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ভুল সিদ্ধান্ত, শৃঙ্খলার অভাব এবং আক্রমণভাগে কার্যকর স্ট্রাইকারের সংকট দলকে ভুগিয়েছে।
অর্থনৈতিক পিছিয়ে পড়া:
ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোর তুলনায় ইতালিয়ান ফুটবল আর্থিকভাবে পিছিয়ে রয়েছে। টিভি স্বত্ব ও বাণিজ্যিক আয়ে পিছিয়ে থাকায় ক্লাবগুলো সেরা প্রতিভা ধরে রাখতে পারছে না। ফলে অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় বিদেশমুখী হয়ে পড়ছে।
সব মিলিয়ে ইতালিয়ান ফুটবল বর্তমানে এক ধরনের সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এক সময়ের পরাশক্তি দলটি এখন নিজেদের হারানো অবস্থান ফিরে পেতে সংগ্রাম করছে।
এসআর
মন্তব্য করুন: