চার দশকের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে জায়গা করে নিয়েছে ইরাক জাতীয় ফুটবল দল। আন্তমহাদেশীয় প্লে-অফের শেষ লড়াইয়ে বলিভিয়া জাতীয় ফুটবল দলকে ২–১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে তারা।
মেক্সিকোর মন্তেরেই শহরে বাংলাদেশ সময় বুধবার সকালে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজতেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন ইরাকের ফুটবলাররা। কেউ আনন্দে দৌড়ে বেড়িয়েছেন, কেউ সতীর্থদের আলিঙ্গনে জড়িয়েছেন, আবার কেউ সিজদায় নত হয়ে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন স্রষ্টার প্রতি। কারও চোখে আনন্দাশ্রু—৪০ বছরের অপেক্ষার পর স্বপ্নপূরণের এমন আবেগঘন দৃশ্যই দেখা গেছে মাঠজুড়ে।
ম্যাচের শুরুতেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে এগিয়ে যায় ইরাক। ১০ম মিনিটে গোল করে দলকে লিড এনে দেন আলি আল-হামাদি। প্রথমার্ধেই সমতায় ফেরে বলিভিয়া। তবে বিরতির পর আবারও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ইরাক। ৫৩তম মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন আয়মেন হুসেইন। শেষ পর্যন্ত সেই গোলই জয় নিশ্চিত করে।
এর আগে ১৯৮৬ সালে মেক্সিকো বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিল ইরাক। দীর্ঘ ৪০ বছর পর আবারও একই দেশের মাটিতে বাছাইপর্ব পেরিয়ে বিশ্বকাপে ফেরা তাদের জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

ম্যাচটি খুব বেশি দৃষ্টিনন্দন না হলেও ইরাকের খেলায় ছিল দৃঢ়তা ও লড়াকু মানসিকতা। সীমিত সুযোগ পেয়েও সেগুলোকে কাজে লাগিয়েছে দলটি। রক্ষণভাগও ছিল সংগঠিত ও দৃঢ়। অন্যদিকে, পুরো ম্যাচজুড়ে কার্যকর আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেনি বলিভিয়া। শেষ দিকে কয়েকটি কর্নার পেলেও বড় কোনো সুযোগ তৈরি করতে ব্যর্থ হয় তারা।
ম্যাচ শেষে ইরাকের প্রধান কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড খেলোয়াড়দের প্রশংসা করে বলেন, “ফুটবলাররা সত্যিকারের ইরাকি মানসিকতা নিয়ে খেলেছে। তারা লড়াই করেছে, নিজেদের উজাড় করে দিয়েছে। এই কারণেই আমরা জিতেছি।”
তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের প্রায় ৪ কোটি ৬০ লাখ মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারা তার জন্য বিশেষ আনন্দের।
ইরাকের এই জয়ের মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত হলো এবারের বিশ্বকাপের ৪৮ দলের তালিকা। আসন্ন আসরে এশিয়া থেকে অংশ নেবে ৯টি দল। ৪০ বছর পর বিশ্বমঞ্চে ফেরা ইরাক এখন নতুন স্বপ্ন নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করবে—বিশ্বকাপে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের লক্ষ্যে।
এসআর
মন্তব্য করুন: