[email protected] মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
১৯ কার্তিক ১৪৩৩

জামায়াতের রাজনৈতিক ইতিহাস স্বৈরাচারের কাছে নতজানু হওয়ার: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১ নভেম্বর ২০২৬ ১০:১৪ পিএম

সংগৃহীত ছবি

জামায়াতে ইসলামীর আমিরের ‘আরেকটি বিপ্লব দরজায় টোকা দিচ্ছে’ বক্তব্যের কড়া সমালোচনা

 করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জামায়াতের রাজনীতির ইতিহাস হলো আত্মসমর্পণের ইতিহাস এবং স্বৈরশক্তির কাছে নতজানু হওয়ার ইতিহাস।

​রোববার (১ নভেম্বর) ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

​রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করে বলেন, পোশাক শ্রমিকদের হঠাৎ রাস্তায় নামিয়ে দেশে কৃত্রিম অস্থিরতা সৃষ্টি করা হচ্ছে, অন্যদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান একের পর এক বিদেশ সফরের মাধ্যমে দেশের জন্য বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি নিয়ে আসছেন। দেশকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা বাধাগ্রস্ত করতেই এমন চক্রান্ত চালানো হচ্ছে।

​তিনি আরও উল্লেখ করেন, এসব ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে গাড়ি, বাস ও পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি পুলিশের ওপর হামলার মতো ঘটনা ঘটছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের যুবলীগ ও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে দাবি করে তিনি জানান, আজকেও ঘটনার সময় থেকে ১১ জনকে আটক করা হয়েছে, যার মধ্যে একজন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। উক্ত ব্যক্তি নিজে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে আন্দোলনের মধ্যে এসব নাশকতা চালানোর কথা স্বীকার করেছেন।

​রিজভী সতর্ক করে বলেন, একদল পরাজিত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শক্তি এবং অন্যদিকে আরেকটি নতুন শক্তি গোপনে হাত মিলিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছে।

​বক্তব্যে বিএনপির সামাজিক সুরক্ষা ভাবনার বিষয়টি তুলে ধরে রিজভী বলেন, ইমাম, মুয়াজ্জিন, হিন্দু সম্প্রদায়ের পুরোহিত এবং বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মীয় নেতাদের ভাতার আওতায় আনার যে পরিকল্পনা তারেক রহমান নিয়েছেন, তা একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, জাতীয়তাবাদী শক্তির ভিত্তি এই দেশের মাটি, সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতা। বিদেশে কারও ওপর ভিত্তি করে তাদের আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ নেই এবং তারা এই দেশেই থাকবেন।

​অনুষ্ঠানে উত্তাপিত সাত দফা দাবির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের কথা বলেন। তবে সেই সংস্কার বলতে ঠিক কী বোঝানো হচ্ছে, তা পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যার আহ্বান জানান তিনি।

​উক্ত সভায় ঢাকা বারের সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম খান, সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলম মিয়া, ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী, সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব বোরহান উদ্দিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নজরুল ইসলাম, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ঢাকা বার ইউনিটির সদস্য সচিব নিহার হোসেন ফারুক, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সিনিয়র এজিএস ইলতুৎমিশ সওদাগর এনি ও অফিস সেক্রেটারি মো. আবজাল হোসাইন মৃধাসহ আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

এইচ/এম

সম্পর্কিত খবর