[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
২০ কার্তিক ১৪৩৩

তাহসিফের মৃত্যুর আগের রাতের নতুন সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ৬:১১ পিএম

সংগৃহীত ছবি

সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এসেছে।

মৃত্যুর আগের রাতে উত্তরার একটি রেস্টুরেন্ট ও বারে এক তরুণী এবং তার পরিচিত আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে নিয়ে সময় কাটিয়েছিলেন তিনি। এ সময়ের কিছু সিসিটিভি ফুটেজ তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। ফুটেজে তিনজনের একসঙ্গে ওই প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ ও বের হওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে।

 

ফুটেজ পর্যালোচনায় জানা যায়, ২৭ অক্টোবর রাত ১০টা ১৭ মিনিটে তাহসিফ ও তার এক বান্ধবী উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরে অবস্থিত নেস্ট রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে পৌঁছান। তারা মোটরসাইকেলে সেখানে যান। এর কিছুক্ষণ পর অন্য একটি মোটরসাইকেলে করে সেখানে আসেন আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপ। পরে তিনজনকে একসঙ্গে রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করতে দেখা যায়।

 

প্রতিষ্ঠানটির ভেতরের আরেকটি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, তাহসিফ ও ওই তরুণী লিফটের সামনে অপেক্ষা করছিলেন। পরে হেলমেট পরা অবস্থায় সেখানে আসেন দীপ। এরপর তিনজন একসঙ্গে লিফটে ওঠেন। রাত ১১টা ৫১ মিনিটে তাদের রেস্টুরেন্ট থেকে বের হতে দেখা যায়। অর্থাৎ সেখানে তারা প্রায় দেড় ঘণ্টা অবস্থান করেছিলেন।

 

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রেস্টুরেন্ট থেকে বের হওয়ার পর তাহসিফের বান্ধবীকে তার বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর তাহসিফ ও দীপ টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় যান। ওই এলাকায় তাদের অবস্থান এবং পরবর্তী সময়ে কী ঘটেছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

 

ঘটনার বিভিন্ন দিক যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ওই রাতে তাহসিফের সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের চলাচল ও অবস্থান সম্পর্কেও তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা চলছে। তবে নতুন ফুটেজ নিয়ে তদন্ত কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

উল্লেখ্য, ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের একটি আবাসিক ভবন থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরদিন ২৮ অক্টোবর উত্তরখানের রাজাবাড়ি ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ।

 

মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়ার দিন দীপ তাহসিফকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও অন্যান্য সূত্রের মাধ্যমে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, তারা টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় গিয়েছিলেন।

 

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দীপ দাবি করেন, ওই এলাকায় যাওয়ার পর তারা কয়েকজনের ধাওয়ার মুখে পড়েন। একপর্যায়ে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন বলে জানান তিনি। তবে দীপের দেওয়া এই বক্তব্য নিয়ে আপত্তি ও সন্দেহ প্রকাশ করেছে তাহসিফের পরিবার।

 

এদিকে, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দীপকে শনিবার ঢাকার আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্তের প্রয়োজনে নৌ-পুলিশের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন তার সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াসের আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এফ/ডি

সম্পর্কিত খবর