[email protected] বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
২০ কার্তিক ১৪৩৩

বিএনপি সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে: আসিফ মাহমুদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ৭:৪৫ পিএম

সংগৃহীত ছবি

দেশ বর্তমানে এক ভয়াবহ সংকটময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে জাতীয় নাগরিক

 পার্টি (এনসিপি)-র সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব মো. আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, বিএনপি সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। জুলাই সনদ তো দূরের কথা, গত ১০ বছর ধরে রাজনীতি করা ৩১ দফাও তারা ভুলে গেছে। ঢাকা শহরে নতুন করে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাফিয়াতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে এবং আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এনসিপি এসব মাফিয়াতন্ত্রের কবর রচনা করবে।

​শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে চার দফা দাবিতে আয়োজিত এক গণবিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

​দেশের সংকট ও জীবনযাত্রার মান নিয়ে ক্ষোভ

আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘দেশ একটা ভয়াবহ সংকটময় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এখানে যদি সমস্যা নিয়ে কথা শুরু করা হয়, সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত হয়ে যাবে, রাত পেরিয়ে সকাল হয়ে যাবে, কথা শেষ হবে না।’ বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি, ভুতুড়ে বিল ও গ্যাস সংকটের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, এলপিজির দাম ১ হাজার ৮০০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও তা ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে না পেরে ঢাকা শহর ছেড়ে গ্রামে ফিরে যেতে শুরু করেছে।

​বিএনপির বিরুদ্ধে প্রতারণা ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ

বিএনপির কঠোর সমালোচনা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘এই সরকার আমাদের নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি, ইশতেহার দেখিয়েছিল। নির্বাচনের পর তারা জুলাই সনদ তো দূরের কথা, যে ৩১ দফা নিয়ে গত ১০ বছর ধরে রাজনীতি করে আসছে, ওই ৩১ দফাও তারা ভুলে গেছে।’

​যাঁরা আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিয়েছিলেন তাঁদের দূরে ঠেলে দিয়ে 'নেপোকিডদের' (স্বজনপ্রীতি ও সুবিধাভোগী প্রজন্ম) রাজত্ব শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের সময় সুযোগ-সুবিধা নেওয়া এবং যারা কখনো বাপের পরিচয়ও দেয়নি, সরকার আসার সঙ্গে সঙ্গেই তারা সব টেন্ডার ও ক্ষমতার জায়গায় বসে গেছে। তবে বিএনপির মাঠপর্যায়ের ত্যাগী নেতাকর্মীরাও একদিন এই অবিচারের বিরুদ্ধে তাঁদের মিছিলে এসে যুক্ত হবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

​ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ও রাজনৈতিক চিত্র

ঠাকুরগাঁওয়ের উপনির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে আসিফ মাহমুদ বলেন, সেখানে সকাল থেকেই প্রিসাইডিং অফিসারদের ব্যালটে সিল মেরে রাখতে দেখা গেছে। অথচ সরকারি ও বিরোধী প্রার্থী একে অপরকে মিষ্টি খাওয়াচ্ছেন, যা দেশের গণতন্ত্রের অত্যন্ত সংকটময় ও দুরবস্থার চিত্র ফুটিয়ে তোলে। এই পরিস্থিতিই প্রমাণ করে কেন বাংলাদেশের আগামী রাজনীতিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি এবং একটি আপসহীন শক্তিশালী গণতান্ত্রিক দলের বিকল্প নেই। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই এনসিপি ক্ষমতায় যাওয়ার উপযুক্ত হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

​স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও প্রশাসকদের নিয়ে আপত্তি

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রশাসকদের অংশগ্রহণের তীব্র বিরোধিতা করে তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনে মনোনয়নবঞ্চিত ও জনগণের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত ব্যক্তিদের বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে এবং এখন তাঁরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পাঁয়তারা করছেন। সিটি করপোরেশনের প্রশাসকদের কাজ শহর পরিষ্কার রাখা হলেও তাঁরা সিটি করপোরেশনের টাকা ও লোগো ব্যবহার করে পুরো ঢাকা শহর পোস্টার ও ব্যানারে নোংরা করে ফেলেছেন। এসব প্রশাসককে কোনোভাবেই নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

​চাঁদাবাজি ও মাফিয়াতন্ত্রের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি

ঢাকায় উচ্ছেদের নামে নতুন করে চাঁদাবাজির সাম্রাজ্য গড়ে তোলার অভিযোগ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, দলীয় গুন্ডাবাহিনী নিয়ে সকালবেলা উচ্ছেদ করে বিকেলে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছ থেকে বাড়তি চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। ঢাকা শহরে তারেক রহমান নতুন মাফিয়াতন্ত্র গড়ার চেষ্টা করছেন অভিযোগ করে তিনি বলেন, ঢাকা উত্তরে আমিনুল ও মিল্টনের মতো ব্যক্তিদের এবং ঢাকা-৯ এর সংসদ সদস্য কিংবা আব্দুস সালামদের সেই কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এনসিপি ঢাকা শহরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এসব মাফিয়াতন্ত্রের কবর রচনা করবে এবং ঢাকাকে জনগণের জন্য একটি সুন্দর নগরীতে পরিণত করবে।

​আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সরকারের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের ক্ষেত্র হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, গ্যাস-তেল-বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং চাঁদাবাজির মাত্রা বাড়িয়ে দেওয়া এই অবৈধ সরকারের পক্ষে জনগণ ভোট দেবে, নাকি রাজপথে থাকা প্রকৃত প্রতিনিধিদের বেছে নেবে, তা ওই নির্বাচনেই প্রমাণিত হবে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর