[email protected] বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬
২০ কার্তিক ১৪৩৩

বাংলাদেশ-তুরস্ক দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ২০০ কোটি ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ৭:৩৩ পিএম

সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে দ্বিপক্ষীয়

 বাণিজ্যের পরিমাণ ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) মার্কিন ডলারে উন্নীত করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। বাজারে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি, পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব বাড়ানোর মাধ্যমে এই লক্ষ্য অর্জনে কাজ করার কথা জানানো হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ঢাকায় তুরস্কের ১০৩তম প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে তুর্কি দূতাবাস আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

​দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা

আইনমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমানে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ১৩০ কোটি ডলার। তবে এই অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার মতো ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বাণিজ্য বাড়লে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং উভয় দেশের জনগণের সমৃদ্ধি অর্জিত হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক সংলাপ, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মানবিক সহায়তাসহ বিভিন্ন খাতে ব্যাপক সহযোগিতা বিদ্যমান।

​জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের বৈঠকের কথা স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, এটি দুই দেশের অংশীদারিত্বকে আরও বহুমাত্রিক করার অঙ্গীকারের প্রতিফলন।

​রোহিঙ্গা সংকট ও ঐতিহাসিক অনুভূতির প্রকাশ

দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকটে মানবিক সহায়তা এবং অবিচল সংহতি প্রকাশের জন্য তুরস্কের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে বাংলাদেশে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় তুরস্কের সমর্থন কামনা করেন তিনি। বক্তব্যে কাজী নজরুল ইসলামের ‘কামাল পাশা’ কবিতার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এটি তুরস্কের স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতি বাংলাদেশি জনগণের গভীর অনুরাগের একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন।

​বাণিজ্য ও তুর্কি বিনিয়োগ বৃদ্ধির আশ্বাস

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেন জানান, তাঁর দেশ তুর্কি ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বাণিজ্য ও নতুন বিনিয়োগ অনুসন্ধানে উৎসাহিত করছে। বর্তমানে বাংলাদেশে বেশ কিছু তুর্কি কোম্পানির উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ রয়েছে। ঢাকা ও ইস্তাম্বুলের মধ্যে সরাসরি বিমান সংযোগ দুই দেশের যোগাযোগকে আরও সহজ ও সুদৃঢ় করেছে।

​কপ-৩১ সম্মেলন ও ভবিষ্যৎ সূচি

রাষ্ট্রদূত জানান, আগামী ১১ ও ১২ নভেম্বর তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠেয় 'কপ-৩১' শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া সম্প্রতি তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফর এবং আন্তর্জাতিক বিচার সম্মেলনে বাংলাদেশি আইনমন্ত্রীর তুরস্ক সফর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন গতি এনেছে। আগামী ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি ঢাকায় দুই দেশের 'যৌথ অর্থনৈতিক কমিশন'-এর পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার সার্বিক পর্যালোচনা করা হবে।

​সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিত্ব ও বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন এবং অনুষ্ঠান থেকে তুরস্কের জাতির পিতা ও প্রথম প্রেসিডেন্ট গাজী মুস্তাফা কামাল আতাতুর্কের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এসআর

সম্পর্কিত খবর