বিরোধী দল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে যথাযথভাবে ধারণ করছে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, রাজনৈতিক বিরোধিতার নামে আওয়ামী লীগকে পুনরায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।
তাঁর মতে, বিরোধী দলের অবস্থান আগের মতোই হয়ে গেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দল সরকারের সমালোচনা করতেই পারে। তবে সেই সমালোচনা হওয়া উচিত যুক্তিনির্ভর ও গঠনমূলক।
সব বিষয়ে সরকারের সঙ্গে একমত হওয়া জরুরি নয়, কিন্তু দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করার ক্ষেত্রে দলীয় মতপার্থক্য বাধা হওয়া উচিত নয়।
তিনি আরও বলেন, একই মঞ্চে সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসতে আপত্তি থাকলেও বিরোধী দলের নেতারা শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাতে পারতেন।
জনগণের ভোটেই বিএনপি সরকার গঠন করেছে এবং বিরোধী দল সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছে।
নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোটের আগে বিএনপি ও বিরোধী দল—উভয় পক্ষই জনগণের কাছে গিয়েছে।
জনগণ তাদের ভোটের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছর দেশ পরিচালনার দায়িত্ব কাদের হাতে থাকবে, তা নির্ধারণ করেছে। তাঁর ভাষ্য, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের অনুপস্থিতি শহীদ পরিবারগুলোর প্রতিও অবজ্ঞার প্রকাশ।
তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের মধ্যে একটি অভিন্ন লক্ষ্য রয়েছে—মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা।
জুলাই আন্দোলনে শহীদদের আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, স্মৃতিস্তম্ভে ৮১৩ জন শহীদের নাম সংরক্ষণ করা হয়েছে।
তাঁদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার আগামী পাঁচ বছর রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের এই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানানো সবার দায়িত্ব।
এসআর