বাংলাদেশে ই-পাসপোর্টের আবেদনপ্রক্রিয়ার প্রাথমিক কাজ অনলাইনে ঘরে বসেই সম্পন্ন করা যায়।
ই-পাসপোর্টে একটি ইলেকট্রনিক চিপ থাকে। এতে পাসপোর্টধারীর পরিচয় ও বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষিত থাকে, যা পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
অনলাইনে আবেদন শুরুর আগে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি প্রস্তুত রাখা ভালো। সাধারণত যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে—
১. জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন: বয়স ও প্রযোজ্য সরকারি নিয়ম অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য পরিচয়পত্রের তথ্য দিতে হবে।
২. আগের পাসপোর্ট: পূর্বে পাসপোর্ট করা থাকলে পুরোনো পাসপোর্টের তথ্য এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মূল কপি সঙ্গে রাখতে হবে।
৩. পেশাসংক্রান্ত কাগজপত্র: প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী পরিচয়পত্র, চাকরির পরিচয়পত্র বা অনাপত্তিপত্র প্রয়োজন হতে পারে।
৪. বাবা-মায়ের পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য: আবেদনপত্রে তথ্য সঠিকভাবে পূরণের জন্য তাঁদের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য কাছে রাখা সুবিধাজনক।
আবেদনকারীর বয়স, পেশা ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী অতিরিক্ত নথির প্রয়োজন হতে পারে। তাই আবেদনের আগে সরকারি নির্দেশনা যাচাই করা উচিত।
ই-পাসপোর্টের আবেদন করতে সরকারি ওয়েবসাইট epassport.gov.bd ব্যবহার করতে হবে। আবেদনপ্রক্রিয়ার প্রধান ধাপগুলো হলো—
১. ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে অনলাইন আবেদনের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
২. প্রয়োজন অনুযায়ী ই-মেইল ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন।
৩. নিজের বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিস নির্বাচন করুন।
৪. নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা, বাবা-মায়ের নামসহ প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ করুন।
৫. জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধনের তথ্যের সঙ্গে আবেদনপত্রের সব তথ্য মিলিয়ে নিন।
৬. পাসপোর্টের পৃষ্ঠা সংখ্যা, মেয়াদ ও সরবরাহের ধরন নির্বাচন করুন।
৭. নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে আবেদনপত্র ও পেমেন্টের রসিদ সংরক্ষণ করুন।
৮. নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত তারিখে পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হয়ে ছবি ও বায়োমেট্রিক তথ্য দিন।
আবেদনপত্রে নামের বানান, জন্মতারিখ কিংবা অন্য কোনো তথ্যে ভুল থাকলে পরবর্তী সময়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই চূড়ান্তভাবে জমা দেওয়ার আগে সব তথ্য ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।
পাসপোর্টের পৃষ্ঠা সংখ্যা, মেয়াদ এবং সরবরাহের ধরন অনুযায়ী ফি ভিন্ন হয়। নিচে দেওয়া অর্থের পরিমাণ সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদন করার আগে সরকারি ওয়েবসাইটে সর্বশেষ ফি ও ডেলিভারির সময় যাচাই করে নিন।
৪৮ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট, ৫ বছর মেয়াদ
৪৮ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট, ১০ বছর মেয়াদ
৬৪ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট, ৫ বছর মেয়াদ
৬৪ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট, ১০ বছর মেয়াদ
প্রতিবেদনে রেগুলার, এক্সপ্রেস ও সুপার এক্সপ্রেস সেবার সম্ভাব্য সময় যথাক্রমে ২১ দিন, ১০ দিন ও ২ দিন উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকৃত সরবরাহের সময় আবেদন ও সংশ্লিষ্ট অফিসের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করতে পারে।
অনলাইনে আবেদন ও ফি পরিশোধের পর নির্ধারিত দিনে পাসপোর্ট অফিসে যেতে হবে। সঙ্গে রাখতে হবে আবেদনপত্রের কপি, পরিচয়পত্র, ফি জমার প্রমাণ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আগের পাসপোর্ট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি।
সেখানে আবেদনকারীর ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ নেওয়া এবং চোখের আইরিস স্ক্যানসহ প্রয়োজনীয় বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করা হতে পারে। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
ই-পাসপোর্টের আবেদন নিজে করা সম্ভব হলেও ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ ও ফি পরিশোধের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। দালালের সহায়তা নেওয়ার পরিবর্তে সরকারি ওয়েবসাইটের নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং আবেদনসংক্রান্ত রসিদ সংরক্ষণ করা ভালো।
আবেদন জমা দেওয়ার আগে সর্বশেষ ফি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, অ্যাপয়েন্টমেন্টের নিয়ম ও সরবরাহের সময় যাচাই করলে অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি কমানো সম্ভব।
এসআর