[email protected] বৃহঃস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
২১ কার্তিক ১৪৩৩

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ, বিনা খরচে নেওয়া হবে ১০ হাজার বাংলাদেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ ৫:২৮ পিএম

সংগৃহীত ছবি

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের পথ আবারও উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ প্রক্রিয়ায় ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে কোনো অভিবাসন ব্যয় ছাড়াই নিয়োগের বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। পাশাপাশি বাংলাদেশের ৩৩৮টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে তালিকাভুক্ত করার বিষয়েও একমত হয়েছে দেশটি।

 

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

 

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী বাংলাদেশের একটি সরকারি সংস্থা, ২৫টি বেসরকারি প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সি এবং ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে তালিকাভুক্ত করার বিষয়ে সম্মতি পাওয়া গেছে। সরকারি সংস্থাটি হলো বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল)।

 

অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে চাকরির চাহিদাপত্র সংগ্রহ এবং কর্মী বাছাইয়ের কাজ করতে পারবে। এরপর ভিসা ও অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করতে বোয়েসেল এবং তালিকাভুক্ত প্রসেসিং বা সার্ভিস এজেন্সিগুলো সহায়তা করবে।

 

মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ১০ হাজার কর্মীকে বিনা খরচে নিয়োগের বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে মালয়েশিয়া। এ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং নিয়োগব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়ানো।

 

যেভাবে এগোবে নিয়োগপ্রক্রিয়া

দুই দেশের মধ্যে ২০২২ সালের ১৮ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার নির্ধারিত যোগ্যতার ভিত্তিতে বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাই ও তালিকাভুক্ত করার ব্যবস্থা রয়েছে। আগের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে এজেন্সিগুলোর যোগ্যতা যাচাই শুরু হয়। সে সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ৪২৩টি এজেন্সির তালিকা মালয়েশিয়ার কাছে পাঠানো হয়েছিল।

 

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে মালয়েশিয়ার সঙ্গে আলোচনা জোরদার করে। প্রধানমন্ত্রী তার প্রথম সরকারি বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া গিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা করেন।

 

নতুন ব্যবস্থায় নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে চাকরির চাহিদাপত্র সংগ্রহ এবং কর্মী নির্বাচন করবে অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো। এরপর কলিং ভিসা, ই-ভিসা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সহায়তা করবে। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে বাংলাদেশের প্রচলিত নিয়ম মেনে কর্মীদের বহির্গমনসংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। প্রতিটি অনুমোদিত এজেন্সি নিজস্ব লাইসেন্সের আওতায় জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্রের জন্য প্রক্রিয়া চালাতে পারবে।

 

কর্মীদের আর্থিক ঝুঁকি কমানো এবং নিয়োগে অনিয়ম ঠেকাতে এজেন্সিগুলোকে আইন মেনে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রণালয়। কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা এবং অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় এড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

 

মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের মেডিকেল পরীক্ষা নিয়ে সিদ্ধান্ত

মালয়েশিয়ায় যেতে ইচ্ছুক কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারের চূড়ান্ত তালিকা এখনো নির্ধারিত হয়নি। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সমঝোতা অনুযায়ী, এ তালিকা চূড়ান্ত করার দায়িত্ব উভয় পক্ষের।

 

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশের প্রস্তাবের পর মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য, মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রতিনিধি দল সরেজমিনে পরিদর্শন করে নতুন তালিকার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। এ জন্য কিছুটা সময় প্রয়োজন হচ্ছে।

 

তবে শ্রমবাজার চালুর কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নিতে বিদ্যমান অনুমোদিত তালিকা থেকে বিতর্কিত ও অনিয়মের অভিযোগ থাকা মেডিকেল সেন্টারগুলো বাদ দিয়ে বাকি কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে নতুন নীতিমালা অনুসারে কেন্দ্রগুলো যাচাই করে সংশোধিত তালিকা প্রকাশ করা হবে।

 

বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তালিকাভুক্ত মেডিকেল সেন্টারগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে। কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে নতুন কেন্দ্রও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে।

 

মন্ত্রণালয় বলেছে, মালয়েশিয়ায় কর্মী হিসেবে যেতে আগ্রহীদের অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে এবং অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে। কোনো একটি কেন্দ্রকে এককভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হবে না।

 

শ্রমবাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগে সহযোগিতার জন্য মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী, মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। একই সঙ্গে কর্মী নিয়োগের নতুন সুযোগ কাজে লাগাতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর