কোলে দেড় বছরের সন্তান।
তার মতো দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শত শত চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীও একই দাবিতে শাহবাগে অবস্থান করছেন।
রোববার সকাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে জড়ো হন প্রার্থীরা। পরে বেলা ১১টার দিকে মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে অবস্থান নেন তারা। তাদের দাবি, চূড়ান্ত সুপারিশের পরও কেন নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি, তা স্পষ্ট করে দ্রুত নিয়োগপত্র দিতে হবে।
ভোলা থেকে আসা মিতু রানী দাস বলেন, সন্তানকে নিয়ে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে ঢাকায় আসাটা অনেক কষ্টের। কিন্তু চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে আন্দোলনে এসেছেন।
তিনি জানান, নিয়োগপত্র না পাওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো তারা জানতে পারেননি। কৃষক পরিবারের সন্তান মিতু বলেন, চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়া তার জন্য হতাশাজনক। এখন পর্যন্ত নিয়োগপত্র দেওয়ার বিষয়ে কোনো নির্দেশনাও তারা পাননি।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের এক শিক্ষার্থী রফিক (ছদ্মনাম) ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে এসেছেন। গণিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা এই প্রার্থী জানান, এর আগে সমবায় অধিদপ্তর ও কারা অধিদপ্তরে তার দুটি সরকারি চাকরি হয়েছিল। বাড়ি থেকে দূরে কর্মস্থল হওয়ায় তিনি চাকরি দুটিতে ইস্তফা দেন।
রফিক বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চাকরিতে সুপারিশ পাওয়ার পর বাড়ির কাছাকাছি থেকে কাজ করার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু ২৪ সেপ্টেম্বর নিয়োগপত্র প্রকাশের পর তার নাম সেখানে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি জানতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেও সমাধান পাননি বলে জানান তিনি।
বরিশালের উজিরপুর থেকে আসা স্মৃতি রানীও এখনো নিয়োগপত্র পাননি। তিনি বলেন, তাদের একমাত্র দাবি হলো নিয়োগপত্র হাতে পাওয়া। সব জেলার প্রার্থীদের নিয়োগপত্র প্রকাশ করা হলে তারা আন্দোলন থেকে সরে যাবেন।
আন্দোলনকারীরা বিকেল ৫টায় অবস্থানস্থলে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তারা জানান, আড়াই হাজারের বেশি প্রার্থীকে বাদ দেওয়ার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। একই সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মূল দায়িত্ব কোন কর্তৃপক্ষের—এ নিয়েও সংশয় রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
তাদের দাবি, সরকারি চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী ফৌজদারি অপরাধ, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা কিংবা সনদ জালিয়াতির অভিযোগে অযোগ্যদের বাদ দিয়ে বাকি যোগ্য প্রার্থীদের ২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিয়োগপত্র দিতে হবে। অন্যথায় তারা আরও কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্তদের নিয়োগপত্র দেওয়া শুরু হয়। তবে বিভিন্ন জেলার বেশ কিছু প্রার্থী এখনো নিয়োগপত্র না পাওয়ায় তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রার্থীদের দাবি, নিয়োগের ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ায় ২ হাজার ৩৮৫ জন বাদ পড়েছেন।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর লিখিত পরীক্ষা গত ৯ জানুয়ারি দেশের ৬১ জেলায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। পরে ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়।
এসআর