[email protected] রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫ আশ্বিন ১৪৩৩

সংসদে বিল পাস

সন্তানকে সম্পত্তি দান করলেও জীবদ্দশায় ভোগ করতে পারবেন বাবা-মা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:০১ এএম

সংগৃহীত ছবি

সন্তান কিংবা নাতি-নাতনির নামে সম্পত্তি দান করে দিলেও দাতা বাবা-মা, দাদা-দাদি বা নানা-নানি জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগদখলে রাখতে পারবেন।

এ ধরনের বিধান যুক্ত করে ১৮৮২ সালের ‘দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি অ্যাক্ট’ সংশোধনের বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (সংশোধন) বিল-২০২৬’ কণ্ঠভোটে পাস হয়।

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি উত্থাপন করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

বিলটি পাসের আগে এর বিরোধিতা জানিয়ে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন।

অন্যদিকে সরকারি দলের সদস্যরা বাবা-মায়ের সম্পত্তি ভোগের অধিকার নিশ্চিত করার উদ্যোগ হিসেবে বিলটির প্রতি সমর্থন জানান।

নতুন বিধান অনুযায়ী, বাবা-মা, দাদা-দাদি কিংবা নানা-নানি সন্তান বা নাতি-নাতনির কাছে কোনো সম্পত্তি দান করলে দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত সেই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন। একই সুবিধা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি দানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

এ ছাড়া সম্পত্তি দান পাওয়ার পর দাতার জীবদ্দশায় গ্রহীতার মৃত্যু হলেও দাতার ভোগদখলের অধিকার বহাল থাকবে।

পরবর্তী সময়ে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ওই সম্পত্তি গ্রহীতার উত্তরাধিকারীদের মধ্যে হস্তান্তরিত হবে।

বিলটির উদ্দেশ্য ও কারণ ব্যাখ্যা করে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের বিভিন্ন ব্যবস্থা থাকলেও দাতার জীবদ্দশায় সম্পত্তি ভোগের অধিকার অক্ষুণ্ন রেখে দানের বিষয়ে নির্দিষ্ট বিধান ছিল না।

সংশোধনীর মাধ্যমে দাতার জীবনকাল পর্যন্ত ভোগাধিকার সংরক্ষণের সুযোগ রেখে সম্পত্তি দানের একটি আলাদা আইনি ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

আইনমন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত বিধান ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার জন্য সমভাবে প্রযোজ্য হবে।

এর ফলে প্রচলিত সাধারণ দান, মুসলিম আইনের হেবা বা আইনসম্মত অন্য কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না।

এসব ব্যবস্থার সঙ্গে নতুন বিধানের কোনো সাংঘর্ষিক অবস্থাও তৈরি হবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তবে বিলটির বিরোধিতা করেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন।

এর আগে সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, প্রস্তাবিত বিধান কোরআন-সুন্নাহর সুস্পষ্ট নির্দেশনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এ কারণে তিনি বিলটি পাস না করার আহ্বান জানান।

তার বক্তব্য, সম্পত্তি দান করার পরও দাতার আজীবন ভোগের অধিকার নিশ্চিত করা হলে ইসলামী উত্তরাধিকার আইনের বিধান পাশ কাটানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এ বিষয়ে দেশের কয়েকজন বিশিষ্ট আলেমও আপত্তি জানিয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।

ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন আরও বলেন, ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর এবং পরবর্তী সময়ে ২০২৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর সরকারের সংশ্লিষ্ট পর্যায় থেকে দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গেও বিলটির বিধান সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশে কোরআন-সুন্নাহর পরিপন্থি কোনো আইন করা হবে না—এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তার আশঙ্কা, আইনটি কার্যকর হলে ভবিষ্যতে উত্তরাধিকারীদের সম্পত্তির অধিকার নিয়ে বিরোধ ও আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর