[email protected] বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

রামিসা হত্যা মামলায় ‘ডলার’ নাম ঘিরে নতুন আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২ জুন ২০২৬ ১০:৪৯ এএম

সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার শুরু হওয়ার পর প্রধান আসামি সোহেল রানার দেওয়া কিছু বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আদালতে হাজির করার সময় তিনি বারবার ‘ডলার’ নামের এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করে দাবি করেন, ঘটনার মূল দায় তার নয়।

 

সোমবার ঢাকার শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানিতে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে হাজির করা হয়।

এ সময় আদালত কক্ষের ভেতরে ও বাইরে সাংবাদিকদের সামনে সোহেল দাবি করে, অপরাধের সঙ্গে ‘ডলার’ নামের একজন জড়িত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি তাকে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং ঘটনাটির জন্য তাকেই দায়ী করা উচিত।

 

সোহেল আরও অভিযোগ করে যে, ডলার নামের ব্যক্তি মিরপুর এলাকার বাসিন্দা এবং তার সঙ্গে পূর্বপরিচয় ছিল। আদালত থেকে হাজতখানায় নেওয়ার সময়ও সে একই বক্তব্য পুনরাবৃত্তি করে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ওই ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার আহ্বান জানায়।

তবে মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করা বা নিজের দায় কমানোর উদ্দেশ্যে আসামিরা অনেক সময় নতুন তথ্য বা ব্যক্তির নাম সামনে আনে। এই মামলার তদন্তে ডলার নামের একজন ব্যক্তির বিষয়ে অনুসন্ধান করা হলেও তার বিরুদ্ধে কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পল্লবী এলাকায় ডলার নামে একজন ব্যক্তি বসবাস করেন, যিনি পেশায় অটোরিকশা চালক। তিনি মাদকাসক্ত বলে এলাকাবাসীর মধ্যে পরিচিত। সোহেল রানার সঙ্গে তার পরিচয় ছিল বলে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানিয়েছেন। কারণ দুজনেরই যাতায়াত ছিল একই গ্যারেজকেন্দ্রিক পরিবেশে।

 

এলাকাবাসীর দাবি, ডলার ধনী নন, তবে তাদের পরিবার এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করে এবং বাড়ির মালিক। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে তার সম্পর্কও ভালো নয় বলে জানা গেছে।

 

ডলারের বড় ভাই সেলিম রায়হান বলেন, বহু বছর ধরে পরিবারের সঙ্গে ডলারের যোগাযোগ প্রায় নেই। তিনি নিজের মতো চলাফেরা করেন এবং পরিবারের সদস্যরা তার কর্মকাণ্ডে জড়িত নন। তবে যদি কোনো অপরাধে তার সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয়, তাহলে তারও যথাযথ বিচার হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক ওহিদুজ্জামান ভূঁইয়া জানান, তদন্ত চলাকালে ডলার নামের ওই ব্যক্তির বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। কিন্তু সাক্ষ্য, আলামত, প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্লেষণ কিংবা অন্যান্য তদন্তে তার সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

 

এমনকি ঘটনাস্থলে তার উপস্থিতির তথ্যও মেলেনি। সে কারণেই অভিযোগপত্রে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

এদিকে আদালতে সোহেলের দেওয়া বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে জনমনে নতুন কৌতূহল তৈরি হলেও তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, মামলার প্রমাণ ও তথ্যের ভিত্তিতেই বিচার কার্যক্রম এগিয়ে যাবে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর