[email protected] সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
১ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য হতে পারে মালয়েশিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২ জুন ২০২৬ ৬:২৩ এএম

সংগৃহীত ছবি

দেশের নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম সরকারি বিদেশ সফর মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে।

সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী, আগামী ২১ ও ২২ জুন তিনি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে সফর করবেন।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে এই সফরের প্রস্তুতি চলছে। সফরকালে দুই দেশের সরকারপ্রধানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।


কূটনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে, মালয়েশিয়া সফর শেষ করে প্রধানমন্ত্রী ভারত অথবা চীন সফরে যেতে পারেন। তবে কোন দেশটি আগে সফর করা হবে সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। চীন সরকারও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফর নিয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে বলে জানা গেছে।


আলোচনায় শ্রমবাজার ও বাণিজ্য
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে এবারের সফরে শ্রমবাজার, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা গুরুত্ব পেতে পারে।

বর্তমানে প্রায় ৯ লাখ বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন খাতে কাজ করছেন। ফলে কর্মীদের অধিকার, কর্মপরিবেশ, ন্যায্য মজুরি এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান শ্রমবাজারকে আরও কার্যকর ও নিরাপদ করার বিষয়ে নতুন উদ্যোগ নিয়েও কথা হতে পারে। বিশেষ করে অতিরিক্ত নিয়োগ ব্যয়, চুক্তি সংক্রান্ত জটিলতা এবং কর্মীদের বিভিন্ন অভিযোগের সমাধানে সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে।


নতুন রপ্তানি বাজারের সম্ভাবনা
বাংলাদেশের কৃষিপণ্য, বিশেষ করে আম রপ্তানির নতুন বাজার হিসেবে মালয়েশিয়াকে বিবেচনা করা হচ্ছে। দেশটিতে বসবাসরত বৃহৎ বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং দক্ষিণ এশীয় খাদ্যপণ্যের চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে রপ্তানি সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


এ ছাড়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), হালাল খাদ্যসনদ, উচ্চশিক্ষা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।


অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্য
অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও দুই দেশ নতুন সম্ভাবনা খুঁজছে। বর্তমানে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে পাম অয়েল ও জ্বালানি সংশ্লিষ্ট পণ্য আসে, অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, ওষুধ ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করা হয়। সম্ভাব্য এফটিএ বাস্তবায়িত হলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা।


বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে এবং শ্রম, শিক্ষা ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর