[email protected] শনিবার, ২৩ মে ২০২৬
৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বিদ্যুতের দাম বাড়ার প্রস্তাব, স্বস্তি পেতে পারেন ‘লাইফলাইন’ গ্রাহকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৬ মে ২০২৬ ৫:৪৬ পিএম

সংগৃহীত ছবি

আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে দেশের বিদ্যুৎ খাতেও।

বৈশ্বিক তেলের দাম বাড়ার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয়ের আলোচনা জোরদার হয়েছে, যার ফলে দাম বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।


বর্তমানে খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় দাম ৮ টাকা ৯৫ পয়সা। তবে গ্রাহকের ধরন ও ব্যবহারের ওপর ভিত্তি করে এই হার ভিন্ন হয়। এ অবস্থায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) পাইকারি ও খুচরা—দুই স্তরেই ১৭ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে।


জানা গেছে, মঙ্গলবার (৫ মে) এ বিষয়ে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

প্রস্তাবটি যাচাই করতে একটি কারিগরি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, সব প্রস্তাব এখনো পর্যালোচনাধীন রয়েছে এবং ঈদুল আজহার আগে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম।


তিনি আরও বলেন, পাইকারি দামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা হয়। ইতোমধ্যে কয়েকটি বিতরণ সংস্থা তাদের প্রস্তাব জমা দিয়েছে, অন্যরাও দ্রুত জমা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।


তবে নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের জন্য কিছুটা স্বস্তির খবর রয়েছে। মাসে ৭৫ ইউনিটের কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী ‘লাইফলাইন’ গ্রাহকদের ক্ষেত্রে দাম অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে, যাতে তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।


সবশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছিল, যেখানে পাইকারি পর্যায়ে ৫ শতাংশ এবং খুচরা পর্যায়ে গড়ে ৮ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়। বর্তমানে পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিটের দাম ৭ টাকা ৪ পয়সা।


নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। এর প্রভাব হিসেবে খুচরা পর্যায়ে সর্বোচ্চ ১ টাকা ৩৮ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


এছাড়া কিছু বিতরণ সংস্থা ও সঞ্চালন সংস্থাও আলাদাভাবে চার্জ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে, যা বিদ্যুতের মোট ব্যয়ে প্রভাব ফেলতে পারে।


কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রথমে কারিগরি কমিটি সব প্রস্তাব বিশ্লেষণ করবে। এরপর গণশুনানির মাধ্যমে অংশীজনদের মতামত নেওয়া হবে এবং সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে বিইআরসি।


উৎপাদন ব্যয় ও বিক্রয়মূল্যের ব্যবধানের কারণে পিডিবিকে ভর্তুকির ওপর নির্ভর করতে হয়। তবে বিতরণ সংস্থাগুলো সরাসরি ভর্তুকি পায় না, তারা খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুৎ বিক্রি করে আয় করে থাকে।


পিডিবির হিসাবে, প্রায় ৩৭ শতাংশ গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল বাড়তে পারে। কারণ বাকি ৬৩ শতাংশ ব্যবহারকারী ‘লাইফলাইন’ ক্যাটাগরিতে পড়েন। ফলে বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের ওপরই মূলত বাড়তি চাপ পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এসআর

সম্পর্কিত খবর