প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে সাংবাদিক তুহিনকে হুমকি প্রদান করা হয়। গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় আঘাত, ডিআরইউ’র তীব্র নিন্দা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি
অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের জেরে হুমকির মুখে পড়েছেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)-এর সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাংবাদিক আবদুল হাই তুহিন। মোবাইল ফোনে এক ব্যক্তি নিজেকে “শেখ জনি” পরিচয় দিয়ে তাকে হুমকি দিয়েছেন—এ ঘটনায় সাংবাদিক মহলে উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
ডিআরইউ শনিবার (২ মে, ২০২৬) এক বিবৃতিতে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। সংগঠনের সভাপতি আবু সালে আকন এবং সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, “এ ধরনের হুমকি সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের পথে বড় বাধা এবং এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একটি প্রতিবেদন প্রকাশের কারণে সাংবাদিককে হুমকি দেওয়া গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিপন্থী। এ ধরনের ঘটনা অব্যাহত থাকলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
গত ২২ এপ্রিল রাতে সেগুনবাগিচাস্থ ডিআরইউ কার্যালয়ে অবস্থানকালে তুহিনের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে ফোন করে “শেখ জনি” পরিচয়ে এক ব্যক্তি সরাসরি হুমকি দেন। পরবর্তীতে তিনি দাবি করেন, সংবাদ প্রতিদিন পত্রিকায় প্রকাশিত “ডিআইএ-তে দুর্নীতির সিন্ডিকেট” শীর্ষক প্রতিবেদনের জেরেই এই হুমকি দেওয়া হয়েছে।
ডিআরইউ’র দাবি: ডিআরইউ নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে হুমকিদাতাকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি ভুক্তভোগী সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

ঘটনাটি সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাংবাদিকরা যদি নিরাপদ না থাকেন, তবে দুর্নীতি ও অনিয়মের তথ্য সামনে আনা কঠিন হয়ে পড়বে, যা শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত করবে সাধারণ জনগণকেই।
এই ঘটনা আবারও সামনে নিয়ে এসেছে—দেশে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত? বিশেষ করে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বাড়ছে কি না, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, আবদুল হাই তুহিন বর্তমানে শিক্ষা বিষয়ক প্রতিবেদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় সক্রিয় রয়েছেন।
এসআর