পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে দায়িত্ব পালনে ফেরা নতুন সরকারের সামনে বড় তিনটি চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ
পরিস্থিতি, জ্বালানি সংকট এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা—এই তিন ফ্রন্টে সরকারকে কঠিন পরীক্ষা দিতে হতে পারে। খবর বিবিসি বাংলার।
ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে, বিশেষ করে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হচ্ছে। এর প্রলয়ঙ্করী প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের কৃষি ও শিল্প খাতে। এপ্রিল-মে মাসের প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদা এবং সেচ কার্যক্রম অব্যাহত রাখা সরকারের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানিয়েছেন, আপাতত দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত না নিলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় সাশ্রয়ী ব্যবহারের বিকল্প নেই।
জ্বালানি আমদানিতে বাড়তি খরচ মেটাতে গিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। সিপিডি-র ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি থাকায় চড়া দামে জ্বালানি কেনা অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এছাড়া নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনাই হবে আগামী বাজেটের মূল লক্ষ্য।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্ষোভ ও চাপের সৃষ্টি হতে পারে। বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদের মতে, প্রশাসনে দলীয়করণের অভিযোগ জুলাই সনদের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে, যা বিরোধী দলের আন্দোলনকে উসকে দেওয়ার সম্ভাবনা রাখে। তবে সরকার বলছে, জনগণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তারা বদ্ধপরিকর।
এসআর
মন্তব্য করুন: