মুসলিম উম্মাহর অন্যতম প্রধান উৎসব ঈদুল ফিতর আজ। আনন্দ ও পারস্পরিক সম্প্রীতি
ভাগ করে নেওয়ার এই দিনে ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী কিছু বিশেষ সুন্নাত ও পালনীয় কাজ রয়েছে। একইসঙ্গে এমন কিছু কাজ আছে যা পরিহার করা জরুরি।
ঈদের দিনে পালনীয় সুন্নাত ও করণীয়:
পরিচ্ছন্নতা ও গোসল: ঈদের সকালে গোসল করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়া সুন্নাত। সামর্থ্য অনুযায়ী নিজের সবচেয়ে উত্তম বা নতুন পোশাক পরিধান করা আল্লাহর নেয়ামতের শুকরিয়া স্বরূপ।
তাকবির পাঠ: ঈদগাহে যাওয়া-আসার পথে এবং সারা দিন বেশি বেশি তাকবির (আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ) পাঠ করা।
মিষ্টিমুখ করা: ঈদের নামাজে যাওয়ার আগে বিজোড় সংখ্যক খেজুর বা কোনো মিষ্টিজাতীয় খাবার খাওয়া সুন্নাত।
ফিতরা আদায়: রোজার ত্রুটিবিচ্যুতি দূর করতে এবং অভাবী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে নামাজের আগেই ফিতরা আদায় করা জরুরি।
পথ পরিবর্তন: এক পথ দিয়ে ঈদগাহে যাওয়া এবং অন্য পথ দিয়ে ফেরা সুন্নাত, যাতে অধিক মানুষের সঙ্গে কুশল বিনিময় সম্ভব হয়।
শুভেচ্ছা বিনিময়: একে অপরের সঙ্গে হাসিমুখে দেখা করা এবং 'তাকাব্বালাল্লাহু মিন্না ওয়া মিনকা' (আল্লাহ আমাদের ও আপনার নেক কাজ কবুল করুন) বলে দোয়া করা।
ঈদের দিনে যা বর্জনীয়:
রোজা রাখা: ঈদের দিনে রোজা রাখা সম্পূর্ণ হারাম; এটি মূলত মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে মেহমানদারির দিন।
অতিরিক্ত নফল নামাজ: ঈদের নামাজের আগে বা পরে ঈদগাহে কোনো নফল নামাজের বিধান নেই।
অপ্রয়োজনীয় লৌকিকতা: সাজগোজ বা রান্নাবান্নায় ব্যস্ত হয়ে ঈদের ওয়াজিব নামাজে অবহেলা করা ঠিক নয়।
অপচয় ও গুনাহ: ঈদের আনন্দ উদযাপনে শরিয়তবিরোধী কোনো কাজ, অপচয় বা জুয়া খেলায় লিপ্ত হওয়া ইসলামে নিষিদ্ধ।
কুসংস্কার: ঈদকে কবর জিয়ারতের বিশেষ দিন মনে করা বা কোলাকুলিকে আবশ্যক ইবাদত মনে করা থেকে বিরত থাকতে হবে (তবে সাধারণ ভালোবাসা প্রকাশে কোলাকুলিতে বাধা নেই)।
এসআর
মন্তব্য করুন: